ক্রেতা সংকটে ফুটপাতের পোশাকবাজার

Winter-Cloths

Winter-Cloths--1 (1)শীতপোশাকে জমে উঠেছে রাজধানীর ফুটপাতের পোশাকবাজার। তবে হরতাল-অবরোধে বিক্রি কম। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, আতংকের কারণে ক্রেতা আসছে না দোকানে। বেচা-বিক্রি না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় কথা হয় চাঁদনি চক মার্কেটের সামনে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনের সঙ্গে। ‘ছোট নেন দুই শ, বড় নেন দুই শ, বাইচ্ছা নেন দুই শ’। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এভাবেই চিৎকার করছেন তিনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, সকাল থেকে মাত্র দুইটি সোয়েটার বিক্রি করেছেন তিনি।

রুবেল জানান, ‘আতংকে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীতের পোশাকের মৌসুমেও বিক্রি নেই। মানুষ বাইরে আসতে না পারলে বেঁচবো কার কাছে’। কোনো রকম জীবন নিয়ে বেঁচে আছেন বলে জানান তিনি।

নিউ মাকের্ট এলাকায় মহিলাদের সোয়েটার বিক্রি করছেন মোহাম্মাদ সুমন মিয়া। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, “সকাল থেকে একটি সোয়েটার বিক্রি করেছি”। সুমন জানান, গত বছর একই সময়ে এই ফুটপাতের রাস্তা দিয়ে ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে চলাই মুশকিল ছিল। তবে এখন রাস্তা ফাঁকা, ক্রেতা নেই। এই সময়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার সোয়েটার বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।

একই অবস্থা দেখা গেল বায়তুল মোকাররাম ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এই এলাকায় নাশকতার ঝুঁকি একটু বেশি থাকায় ক্রেতারা কমই আসেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকার মোড় ঘুরলেই বাম হাতে শওকত মাহমুদের কোর্ট ও টাই বিক্রির ক্ষুদ্র দোকান।

তিনি জানান, সকাল থেকে এক পিস কোর্ট বিক্রি করেছেন। দোকানে ক্রেতা নেই বলে বিক্রিও হচ্ছে না। এখন সারাদিনে মোটে ১০ পিসও বিক্রি হয় না। তবে গত বছরে একই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ পিস কোর্ট অনায়াসে বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।

আর ১০০ টাকা দরে শীতের পোশাক বিক্রি করছেন গুলিস্তানের মোশাররফ হোসেন। তারও একই কথা। তিনি বলেন, দাম কম থাকলেও ক্রেতা নেই। গত বছরের চেয়ে বিক্রি কয়েকগুণ কম হচ্ছে।

এদিকে, মতিঝিলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন রাস্তায় পোশাক বিক্রি করতে আতংকে থাকি। হরতাল-অবরোধে দোকান খুললেও ক্রেতা আসে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কাছে ছোট ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কথা বলছিলাম যাত্রাবাড়ী এলাকার শীতের পোশাক বিক্রেতা মারুফ হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘নাশকতা আতংকে সব দিন দোকান খোলা হয় না এখন। আবার দোকান খুললেও ক্রেতা আসে না। বিক্রি কম হওয়াতে সংসার চালাতে বড়ই হিমশিম খেতে হচ্ছে’।

সুমন, রুবেল আর শওকতই শুধু নন। রাজধানীর অধিকাংশ ফুটপাতের শীতের পোশাক বাজারের অবস্থা এমনই। রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হয়ে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। শীতপোশাক বিক্রির ভরা মৌসুমেও ব্যবসার এ বেহাল দশায় আমাদের পেটের ভাত জুটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শিগগিরই একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চান তারা।

বেসামাল নিত্যপণ্যের বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে পরিস্থিতির স্থিতিশীল হবে এবং আবারও দোকানে ক্রেতা আসতে শুরু করবে এমনটাই প্রত্যাশা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।