এবার পদ্মা অয়েলের এমডির অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান

podma+dudokঅবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা অর্জনের দায়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর এ লক্ষ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ সাপেক্ষ্যে সম্পদের হিসেব চেয়ে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বুধবার কমিশনের সেগুন বাগিচার কার্যালয় তার সম্পদের হিসেব চেয়ে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানায় দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র।

দুদক সূত্র জানায়, মো. আবুল খায়ের পদ্মা অয়েলে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দায়েরকৃত তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বেশ কিছু অনিয়মের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক হন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদের সব তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই সম্পদ বিবিরণীর নোটিশ জারি করা হলে যাবতীয় সম্পদের হিসাব পাওয়া যাবে।

দুদকের অনুসন্ধান রিপোর্ট সূত্র জানায়, মো. আবুল খায়ের ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ৬ নভেম্বর পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের অফিসার গ্রেড এম-ভি হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১৮ জুন জিএম পদে এবং ২০১১ সালের ১৯ জুলাই এমডি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পদাধিকার বলে তিনি পদ্মা অয়েল কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইএলবিএল এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি বেতন, ভাতা, ইনসেনটিভ বোনাস, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা এবং গুলশানের নিজ ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ বছরে মোট প্রায় আট লাখ ৭৪ হাজার ৬১৬ টাকা তার বৈধ আয় করেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন জানা যায়, ১৯৯০ সালে আবুল খায়ের তার স্ত্রীর নামে চট্টগ্রামের ডবলমরিং থানার পাহাড়তলী মৌজার জে এল নং-৫, মৌজির ২৩০০৬ আরএস জরীপের ৪৫ নং খতিয়ানের ১০ শতক জমি দেড় লাখ টাকায় ক্রয় করেন। একই জেলার মুরাদপুর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার সড়ক নং-১/খ, বাসা নং-২৩ এ তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্লাট ছিল। তবে ওই ফ্ল্যাটটি তিনি ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এছাড়া তিনি রাজধানীর গুলশানে সাত কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয় তলা বাড়ির একটি ফ্ল্যাটের মালিক। যার মূল্য ২০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে আবুল খায়ের ১৯৮৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গুলশানে পাঁচ শতক জমিসহ একটি পুরাতন দোতলা বিল্ডিং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের চার লাখ টাকা লোনসহ সাত লাখ টাকায় ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই জমির দুই দশমিক পাঁচ শতক জমি তার বড় বোন মিসেস ফিরোজা বেগমকে দান করেন। আর তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে চট্টগ্রামের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। তবে ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট না পাওয়ায় ওই অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা আছে তার সুনিদিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী ও পুত্র-কন্যার নামে অন্য কোন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই তার ৩১ বছর চাকরি জীবনে নিজ ও স্ত্রী মনোয়ারা খায়েরের নামে অর্জিত স্থাবরতা সম্পদের মোট মূল্য দাড়ায় ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আর তার চাকরি জীবনে নিজস্ব আয় ব্যতীত গৃহীত ঋণের পরিমাণ মোট ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ২০১১-১২ অর্থ বছর পর্যন্ত তার লোনসহ নীট বৈধ আয়ের পরিমাণ ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তবে মো. আবুল খায়েরেরে বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার মালিক হওয়ার এবং গুলশানসহ বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি ফ্লাটের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠে। তাই তার বিরুদ্ধে বৈধ আয়, সম্পদ ও দায় দেনার সঠিক হিসাব নিরুপনের জন্য তার নামে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এ অভিযোগ অনুসন্ধান করেছেন।

 

প্রসঙ্গত,  ২০১৩ সালের জুনে বিজ্ঞাপন না দিয়ে ও নিয়োগ কমিটি গঠন ছাড়া ৮৮ জন কর্মচারিকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। ওই তিনটি মামলাতেই মো. আবুল খায়ের আসামি হিসেবে রয়েছেন।