খুলল কুয়েতের দরজা, লোক পাঠাবে বোয়েসেল

t-20 world

kuwait-towerতেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ফের খুলছে। সৌদি আরবের পর এবার কুয়েতে শ্রমিক পাঠানো সুযোগ এসেছে।  প্রথম দফায় দেশটি মাত্র ৬শ শ্রমিক নিচ্ছে। এটিকেই বড় তাৎপর্যময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে ৭ বছরের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার অবসান হল। তাই আগামি দিনে ধীরে ধীরে জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে দেশটিতে।

এদিকে জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো(বিএমইটি)সূত্র জানিয়েছে, কুয়তে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লোক পাঠানো হবে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লোয়েমেন্ট এন্ড সার্ভিস লিমিটেড (বোয়েসল) এ দায়িত্ব পালন করবে। শিগগীরই সংস্থাটি  এ বিষয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেবে।

দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর অনেক কুটনৈতিক দৌড়-ঝাঁপের ফলে বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজার উন্মুক্ত হলো মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশ কুয়েতে। দেশটি চলতি মাসেই বাংলাদেশ থেকে ৫৯২ জন শ্রমিককে নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমদ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নিজ কার্যালয়ে অর্থসূচককে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুয়েত সরকার ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তবে সরকারের প্রচেষ্টার ফলে আমাদের জন্য আবারও চালু হলো কুয়েতের শ্রম বাজার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস সেদেশের একটি কোম্পানির জন্য ৫৯৩ জন শ্রমিকের চাহিদা পাঠিয়েছে। চলতি মাসেই এসব শ্রমিক কুয়েতে যেতে পারবেন।

জনশক্তি রপ্তানি প্রশিক্ষণ ব্যুরো(বিএমইটি)এর মহাপরিচালক বেগম শামছুর নাহার বলেন, বিশ্বের যে কয়টি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত অন্যতম। কিন্তু তারা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রেখেছিলো। তবে আমাদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল কয়েক দফায় কুয়েত সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটি বাংলাদেশ থেকে আবারো শ্রমিক নিতে রাজি হয়।

বিএমইটির মহাপরিচালক বলেন, এবার যে সকল শ্রমিক কুয়েত যেতে পারবেন তাদের সবাইকে কৃষি কাজের জন্য নেওয়া হচ্ছে। সেদেশের মন্ত্রণালয়ের চাহিদার আলোকে শ্রমিক পাঠানোর  সব দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লোয়েমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড (বোয়েসল)। এজন্য আগ্রহী সব প্রার্থীকে বোয়েসলের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তবে এবার অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া শ্রমিকদের তুলনায় অনেক কম খরছে যেতে পারবেন তারা। বোয়েসল শ্রমিকদের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যেই পাঠাতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত,১৯৭৬ সালে কুয়েতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাওয়ার সুযোগ পান। ২০০৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে চার লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরি নিয়ে গেছেন।এরপর বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কিছু ‘অনিয়মের’ অভিযোগে ২০০৭ সাল থেকে অনেকটা কৌশলেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয় কুয়েত সরকার।অবশ্য ব্যক্তি উদ্যোগে নিজস্ব ভিসায় কিছু লোক নিয়মিত্ গেলেও,সংখ্যায় তা ছিল খুবই কম।

 

এইউ নয়ন