শিবচরে পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার হাবি হাওলাদার

হাবি হাওলাদার
পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার মাদারিপুরের হাবি হাওলাদার

accidentবিনাদোষে হাবি হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় এনে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেছে পুলিশ। ঢাকার পুঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যাক্তি আজও জানেনা কেন তাকে পুলিশ নির্যাতন করেছে। এমন অভিযোগ নির্যাতনের পরিবারের। এ ব্যাপারে দোষী পুলিশ অফিসাররে নিকট যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাওরাকান্দি ফেরিঘাট এলাকায়।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিত হাবি হাওলাদার বলেন, গত শনিবার রাত আনুমানিক দশটার সময় বাড়ির পাশের শিবচর উপজেলার কাওরাকান্দি ঘাটের ভিআইপি মোড়ে পুলিশ একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল। এসময় শিবচর থানার এস আই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ হাবি হাওলাদারকে (৪০) আটক করে। এসময় হাবি হাওলাদার পুলিশের গাড়িতে উঠতে বাঁধা দিলে তাকে পুলিশ নির্মমভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর অচেতন হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে পুলিশ ভ্যানে করে শিবচর থানায় নিয়ে যায়। থানায় আনার পরে জ্ঞান ফিরে এলে এস আই সাইফুল তাকে মাটিতে ফেলে বুকের উপর লাথি মারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে নির্যাতন চালায়। এসময় হাবি হাওলাদারের বাম পা ও  একটি হাত ভেঙ্গে যায়।  এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হয়ে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে শিবচর থানার এস আই সাইফুল তাকে অচেতন অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়। এ মসয় তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডা. নার্গিস আক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন।

শিবচর থানা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ অফিসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, থানা এনে নির্যাতনের সময় থানার একাধিক পুলিশ সদস্য ও পুলিশ অফিসার নিষেধ করলেও এস আই সাইফুল তা শুনেনি।

এ ব্যাপারে শিবচর থানার এস আই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, গত শনিবার গভীর রাতে পুলিশ হাবি হাওলাদার নামের এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার পুঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত হাবি হাওলাদার বলেন,  নির্যাতনের সময় পুলিশের হাতে পায়ে ধরে কান্না করেছি তারপরেও আমাকে বুট জোতা দিয়ে লাথি মারে এবং লাঠি দিয়ে শরীরের সব স্থানে পিটায়। পুলিশ কেন আমাকে আটক করেছে তা জানিনা।

শিবচর থানার ওসি (তদন্ত) আরশেদ আলী বলেন, আমি জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বে গোপালগঞ্জ ছিলাম তাই কিছু বলতে পারিনা।

উল্লেখ্য, পুলিশের নির্যাতনের শিকার হাবি হাওলাদার শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে গত ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বদ্ধীতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

সাকি/