শীতের আগমন ও প্রস্তুতি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

শীতের আগমন ও প্রস্তুতি

Cold-dressnsp_265প্রকৃতিতে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। সব জায়গায়ই চলছে শীতের হাত থেকে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি। কার্তিক-অগ্রহায়ণে শীতের কিছু আমেজ শুরু হলেও হাড় কাঁপানো শীত পড়তে আর মাত্র দু-একমাস বাকি। সামনে আসছে মাঘের শীত। আর মাঘের শীত নাকি বাঘের গায়েও লাগে।

তাই যে যার সাধ্যমতো শীতের সঞ্চয়ে ব্যস্ত। শীতে চাই উষ্ণতার পরশ। সে জন্য প্রয়োজন শীতের পোশাক। মাঘের তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতে চলছে নানা প্রস্তুতি। শীতকে বরণ করতে ফুটপাত থেকে শুরু করে দেশের ছোট বড় সব বিপণী-বিতান ব্যস্ত সময় পার করছে। এ যেন শীতকে জয় করার মিছিল।

রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটলেই কানে ভেসে আসে “বাইচ্চা লন ১০০ টাকা দেইখ্যা লন ১০০ টাকা”। অবশ্য এদের মাঝে কেউ কেউ তার চেয়ে বেশি বা কম দামেও পোশাক বিক্রি করছেন।

মোট কথা- সবার এখন নজর হলো সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোনো সোয়েটার, চাদর, কাটিগেন, মাফলার, টুপি, জাম্পারসহ শীতের গরম পোশাক কেনার।

শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শিশুরা। বিশেষ করে হতদরিদ্রদের সন্তানেররা হয়ে যায় নিরুপায়। তাই আপনার শিশুর দেখভালের ব্যাপারে আপনাকেই যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।

শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে আপনার আদরের ছোট্ট সোনামনির জন্য নিতে পারেন নান্দনিক গরম পোশাক। সে জন্য অনেকে শিশুর জন্য পছন্দের গরম পোশাক খুঁজছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে।

ঢাকায় এখনো খুব বেশি শীত পড়েনি। তবে শীতের পোশাকের পসরা ঝেঁকে বসেছে রাজধানীর দোকানগুলোতে। এসব দোকান থেকে শীতের পোশাক কিনে নিতে পারেন এখনই।

কোথায় পাবেনঃ

কম দামে ভালো শীতের পোশাক পেতে চাইলে যেতে পারেন ঢাকার নিউমার্কেট বা বঙ্গবাজারে, ঢাকা কলেজের আশপাশে, বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, প্লাজা এআর, প্রিন্স প্লাজা, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, বায়তুল মোকররাম, গুলিস্তান, মতিঝিল, রাজধানী সুপার মার্কেট, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা, টঙ্গীসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতে ।

আর এখান থেকে  সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পছন্দের গরম পোশাকটি।

পোশাকের ধরনঃ

ফুটপাত ও বাজার ঘুরে দেখা গেল দোকানিরা বাহারি ডিজাইনের গরম পোশাকের পসরা নিয়ে বসেছেন।

ছেলেদের পোশাকঃ

ছেলেদের শীতের পোশাকের মধ্যে আছে নানা ধরনের সোয়েটার। গোল গলা, ভি গলা, চিকন কলারের এসব সোয়েটারে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন। সামনের দিকে চেইন বা বোতাম আছে কিছু পোশাকে। নানা রঙের জ্যাকেটে খুঁজে পাওয়া যাবে বৈচিত্র্য। চামড়া, রেকসিন অথবা ওলের কাপড়ে তৈরি এসব জ্যাকেট। ডেনিম বা গ্যাবাডিন কাপড়ের ব্লেজারও আছে।

মেয়েদের পোশাকঃ

মেয়েদের জন্য উলের তৈরি কার্ডিগান, ফুল ও কোয়ার্টার হাতার ক্যাজুয়াল ব্লেজার, সোয়েটার, ট্রাউজার, পাতলা চাদর ইত্যাদিসহ নানা ধরনের পোশাক।

শিশুদের পোশাকঃ

উলের সোয়েটার, চামড়া ও পশমি জ্যাকেট, ফ্লানেলের সোয়েটার সবই পাওয়া যাচ্ছে। আরও আছে সামনে চেইন টানা নানা ধরনের সুপার হিরো বা কার্টুন আঁকা পোশাকও।

দর-দাম কেমনঃ

ফুটপাতে নানা দাম উল্লেখ করে ডাকা ডাকি করে থাকেন সেখানের দোকানিরা। চাইলে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরম পোশাক কিনতে পারেন। ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার ডাক রয়েছে ফুটপাতের দোকানে।

নানা ধরনের পোশাক, তাই দামও নানা রকমের। তবে মেয়েদের গরম পোশাক কিনতে পারবেন ১৫০ থেকে ৭০০ টাকায়।

ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে ফুল হাতা টি-শার্ট ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, গেঞ্জির কাপড়ের সোয়েটার ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পাতলা উলের সোয়েটার ৪০০ টাকা, জ্যাকেট ২০০ থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকার মধ্যে।

জাম্পার ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, ছেলেদের ফুলহাতা সোয়েটার ৫০০  থেকে ১ হাজার টাকা, বাচ্চাদের ফুলহাতা সোয়েটার ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ও মেয়েদের চাদর ৫০০ টাকা, ডিজাইন ও আকার ভেদে দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে শাল।

এ ছাড়া কিনতে পারেন পাতলা রেকসিনের নানা রঙের ব্লেজার। দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ক্যাজুয়াল ব্লেজার পাবেন ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

বিভিন্ন বাজারে শিশুদের শীতের পোশাকের দামে  ভিন্নতা থাকলেও। শিশুদের ব্লেজার সেটের দাম  ৩০০ থেকে ১ হাজার  টাকা, উল ও ফ্লানেলের গরম পোশাক ২০০ থেকে ৭০০ টাকা, সোয়েটার ৩০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, জ্যাকেট ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, উল বা ফ্লানেলের জুতা ৫০ থেকে ১০০ টাকা, মোজা ২৫ থেকে ১০০ টাকা, গেঞ্জি পাজামা সেট ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গেঞ্জি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, পাজামা ৫০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোট্ট কম্বল ৫০০ থেকে ১ হাজার  টাকা, মেয়ে শিশুদের ফ্লানেলের জামা পাজামা সেট পড়বে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং বেবি সেট কিনতে পারেন ২৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

বায়তুল মোকাররমের  পোশাক বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন অর্থসূচককে জানান, এখনও তেমনভাবে শীত পড়তে শুরু করেনি। শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। কিছুদিন পর থেকে পুরোদমে বিকি কিনি চলবে। এখন হালকা  কিছু গরম কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বড় বিপণী-বিতানের চেয়ে একই মানের পোশাক এখান থেকে একটু কম দামে কিনতে পারবেন।

মতিঝিলের আরেক পোশাক বিক্রেতা সোহেল বলেন, বেচা বিক্রি এখন পর্যন্ত তেমন জমে উঠছে না। আর কিছু দিন পর শুরু হবে ধুমছে বেচা-কিনা।

এআর

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ