ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়১৮ দলের ডাকা নির্বাচন পরবর্তী টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয়  দিনে চরম শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।  ঘন কুয়াশা, ধীর গতি ও নাশকতার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলে এই শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।  ফলে স্টেশনে আসা যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

মঙ্গলবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে ট্রেনগুলো। নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে পৌঁছাচ্ছে স্টেশনে। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস গত দুই দিন ধরে কমলাপুরে আসেনি। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছাড়ার কথা ছিল।

তবে বেলা একটা বাজলেও এখনও এই ট্রেনটির দেখা পায়নি যাত্রীরা। এদিকে উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯ টায় স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও এখনও আসেনি ট্রেনটি। জায়ন্তিকা এক্সপ্রেস সকালে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনও আসেনি।

কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল থেকে তুরাগ, দেওয়ানগঞ্জ, তিস্তা, ১১ সিন্দুর, কর্ণফুলি, অগ্নিবীণা ও বলাকা এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীদের অনেকে অভিযোগ করলেন নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি।

মেয়ে দিপা মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর যাচ্ছেন বাবা জন মিত্র। সকাল ৮টায় স্টেশনে আসলেও এখন বেলা একটা বাজে। তবে ট্রেন যে কখন আসবে এটা জানেন না তিনি।

উত্তরবঙ্গের জাহাঙ্গীর আলম অন্য আর চার জনের সঙ্গে কাজ করেন কুমিল্লায়।  ছয় মাস পরে বাড়িতে যাচ্ছেন তিনি। সকাল ৮টায় স্টেশনে আসলেও ট্রেন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

এভাবে বহু যাত্রী আজ ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন স্টেশনে। নিজেদের মালামাল ও ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকে কাঙ্ক্ষিত ট্রেন না আসাতে অনেকে টিকেট ফেরত দিয়ে আবার নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন।

কমলাপুর স্টেশনের ব্যাবস্থাপক খায়রুল বাশার অর্থসূচককে জানান, সকাল থেকে প্রতিটা ট্রেন ছেড়ে গেলেও ঘন কুয়াশা ও ধীর গতির কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানান, এখনও ট্রেনগুলো প্রায় ৩০ কিলোমিটার ধীর গতিতে চলছে। যা অন্য সময়ে চলতে ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার।

ঘন কুয়াশার কারণে তা আরও ধীরে চলছে বলে জানান তিনি। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িগুলো স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া হরতালে এখনও নাশকতার হুমকি থাকায় একটু সতর্কভাবে আসতে হচ্ছে।

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ট্রেন আসলে আমরা সেটাকে যত দ্রুত সম্ভব ছাড়ার ব্যবস্থা করছি। তবে স্টশনে না আসলে এটা করা তো আর সম্ভব হচ্ছে না।’ তাছাড়া ঘন কুয়াশা আর ধীর গতিতে চলা চলে এখন একটু বিলম্বে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।’