খুলনায় ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

Khulna

Khulnaখুলনার ৩টি আসনের ৮জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই জামানত হারিয়েছেন। এবার সবচেয়ে কম ভোট পড়লেও জমা পড়া আট ভাগের একভাগ ভোটও পাননি তারা।

জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১, ২ ও ৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন হওয়া আসনগুলোর মধ্যে খুলনা-১ এ তিনজন, খুলনা-২-এ দু’জন ও খুলনা-৩ আসনে তিনজনসহ মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এসব আসনে ৩ জন বিজয়ী ও একজন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়া নির্বাচন বিধিমালার ৪৪ (৩) ধারা অনুযায়ী বাকি ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। ওই বিধিমালায় বলা হয়েছে, “নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম ভোট পেলে জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।”

খুলনা-১ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। এ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুনিল শুভ রায়ের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৯৮১। খুলনা-১ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট সংখ্যা ১ লাখ ৯৫৪। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন পঞ্চানন বিশ্বাস। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৫২৭ ভোট। কেবল পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে তার জামানত রক্ষা পেয়েছে। এ আসনে বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ ভোট। দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে বর্তমান ভোট সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৯। এ আসনে ৪৭.৫৬ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

খুলনা-২ আসনে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) রাশিদা করিমের জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৬৪৯। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৭৪ হাজার ৭২৬। বালিতকৃত ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৬। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান ৬৯ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৬০। নগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২৮.৪০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

খুলনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান খান খোকন ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহিদা বেগমের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে মনিরুজ্জামান খান খোকন পেয়েছেন ৬ হাজার ৪২৪ ভোট ও সাহিদা বেগম পেয়েছেন ৫১২ ভোট। নৌকা প্রতীক নিয়ে এ আসনে বর্তমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ৪৫ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১ ভোট। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ১৫৫। খালিশপুর ও দৌলতপুর থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৭৫। ৩০.৮৪ শাতাংশ ভোটার এ আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

একক প্রার্থী থাকায় খুলনা-৪ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও খুলনা-৬ আসনে অ্যাডভোকেট নুরুল হক আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এআর