সহিংসতায় হতাশ জাতিসংঘ, সংলাপের তাগিদ

ban ki munবাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। সেই সাথে নির্বাচনকে ঘিরে চলমান সহিংসতা ও প্রানহানীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের নির্বাচনোত্তর এক বিবৃতিতে মহাসচিবের এক মুখপাত্র জানান একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যপারে দুই দলকে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) সংলাপে বসারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার মহাসচিবের ওই মুখপাত্র ফারহান হক বিবৃতিতে বলেন, ‘মহাসচিব রাজনৈতিক দলগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অর্থবহ সংলাপ শুরুর তাগিদ দিয়েছেন এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তার প্রতি সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’

মহাসচিবের বরাত দিয়ে ফারহান বলেন, ‘জনগণ বা তাদের সম্পদের ওপর হামলা, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

প্রসঙ্গত নির্বাচনের দিন এবং এর পরের দিন সহিংসতায় বাংলাদেশের বাংলাদেশে মোট ২৬ জন নিহত হয়েছে। আর সহিংসতার কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার বিষয়ে এক তরফা অবস্থান ও সে কারণে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলের নির্বাচন বিরোধী অবস্থান।

নির্বাচন বিরোধী এই জোটটি নির্বাচন বর্জনই কেবল নয় নির্বাচন প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে তারা নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পুড়িয়ে ফেলে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর পর থেকে আইন শৃঙ্খলা বহিনীর সাথে সংঘর্ষে গতকাল পর্যন্ত ২৬ জন নিহত হয়।

বাংলাদেশের এই আলোচিত নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে বেশ আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল। জাতিসংঘও একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য দুই দলকে বসানোর জন্য প্রতিনিধি পাঠায়। সহকারী মহাসচিব ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশে এসে দুই দলের সাথে একাধিক বৈঠকে বসেন।

তবে তার উপস্থিতিতে দুই দলের নেতারা একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও পরে সে আলোচনা আর আগায়নি।

শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তবে নির্বাচনে স্বল্প ভোটারের উপস্থিতি এই নির্বাচনকে প্আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিরোধী জোটও আবার হরতাল অবরোধের ঘোষণা করে । এর ফলে দেশের মানুষের মধ্যে আবারও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।