পুষ্টিগুণে গুণান্বিত

Carrot-ginger3সবজি হিসেবে পরিচিত গাজর। যা বাংলাদেশে শীতকালে পাওয়া যায়। দেখতে অসাধারণ এই সবজির রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ।খেতেও বেশ মজাদার এই গাজর। আজ  অর্থসূচকের পক্ষ থেকে জানানো হবে গাজরের কি কি পুষ্টিগুণ এবং গাজর কি পরিমানে খেতে হয়।

গাজরে যে উপাদানগুলো রয়েছেঃ

শীতকালীন সুস্বাদু, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং উচ্চ ফলনশীল এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যারোটিন যা ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ তে রূপান্তরিত হয়। গাজরে প্রাপ্ত ক্যারোটিন কচুশাক, কলমিশাক, লালশাক ও পুঁইশাক বাদে অন্যসকল শাকসবজি ও ফলের চেয়ে বেশি। নিয়মিত গাজর খেলে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ’র অভাব পূরণ হয় যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

এছাড়াও এত রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্টসহ। ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি ও ফাইবার পটাশিয়াম।

যেসব রোগ সারাতে সহায়কঃ
ওবেসিটি, মাড়ির সমস্যা, ইনসম্নিয়া, কিডনি, লিভার ও গলব্লাডারের সমস্যা, আলঝিইমার, অ্যাজমা কোলাইটিস এবং চোখের সমস্যা।

  • গাজরের সবচেয়ে বেশি উপকারঃ
    চোখ ও হার্ট ভালো রাখে :চোখের জন্য গাজর খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে গাজর সাহায্য করে। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে : গাজর অ্যান্টি এজিং উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই এর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও ত্বক টানটান রাখে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। বিটা ক্যারোটিন এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করে। এতে ত্বকে সহজেই বয়সের ছাপ পড়ে না।
  • আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে :গাজরের ক্যারোটিনয়েড এ রকম ত্বকের উপশমে সাহায্য করে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকের ন্যাচারাল ট্যান ভাবকে ধরে রাখে। ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করে ও হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
    গাজরের জুসের উপকারিতা
  • কাঁচা গাজরের তুলনায় সেদ্ধ গাজর পুষ্টিগুণে ভরপুর। এর জুসও বেশ স্বাস্থ্যকর। কারণ গাজরের জুসে সহজপাচ্য ফাইবার থাকে। heart-shaped-carrots
  • কাঁচা গাজর খেলে যেখানে গাজরের উপস্থিত বিটা ক্যারোটিনের মাত্র ১ শতাংশ আমাদের শরীরে কাজে লাগে, সেখানে গাজরের জুস খেলে আমাদের শরীরে গাজরের উপস্থিতি পুরো বিটা ক্যারোটিন অ্যাবজর্ব করতে পারে।
  • গাজরের জুসে অ্যান্টি কারসেনোজনিক উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • শিশুদের জন্য গাজরের জুস টনিকের মতো কাজ করে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • গাজরে রয়েছে ফোটোনিউট্রিয়েট ফ্যালকর্নিকল, যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
  • হাইপারটেনশনের সমস্যায় গাজরের জুস উপকারী।
  • গাজরের জুসের সঙ্গে মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্লাস খান। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যাবে।
  • গাজর স্টোরেজ টিপসঃ
  • ফ্রিজে গাজর র‌্যাপ করে রাখবেন। তা না হলে গাজরের স্বাদ চলে যাবে।
  • গাঢ় কমলা রঙের গাজর বেছে নিন। রঙ গাঢ় হলে বুঝবেন প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। গাজরের গা খসখস হলে না কেনাই ভালো। এগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
  • গাজরের গোড়ার রঙ কালো হয়ে গেলে কিনবেন না। গাজরের গোড়া যেন সবুজ থাকে।

একটি ১০০ গ্রাম গাজরে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছেঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হল- ক্যারোটিন ১০,৫২০ মাইক্রোগ্রাম, শর্করা ১২.৭ গ্রাম, আমিষ ১.২ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৫.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭.০ মি. গ্রা., আয়রণ ২.২ মি. গ্রা., ভিটামিন বি১ ০০.০৪ মি. গ্রা., ভিটামিন বি২ ০.০৫ মি. গ্রা., চর্বি ০.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৫ মি. গ্রা., আঁশ ১.২ গ্রাম, অন্যান্য খনিজ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ ক্যালরি।

Carrot, Invicta 092910-3যে পরিমানে গাজর খেতে হবেঃ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ৫ দিন দৈনিক ১টি করে মধ্যম আকারের গাজর খেলে মহিলাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করে এবং পুরুষের ১০% কোলেস্টেরল হ্রাস করে।সুতরাং বয়স্কদের জন্য গাজর খাওয়া অতি জরুরি। লিউসিন যা আমাদের দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড যা গাজরে বিদ্যমান রয়েছে। নিয়মিত গাজর খেলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয় এবং পেটের নানারকম সমস্যা দূর হয়, হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্ককে মজবুত রাখে, কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।