তেল ছাড়া সব পণ্যের আমদানি বেড়েছে

Port container
কন্টেনার-ফাইল ছবি
ছবি: ফাইল ছবি
ছবি: ফাইল ছবি

গত পাঁচ মাসে(জুলাই-নভেম্বর) তেল ছাড়া সব পণ্যেরই আমদানি বেড়েছে। এসময়ের মধ্যে মোট আমদানি বেড়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। এসময়ে জ্বালানি তেলের আমদানি কমেছে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণপত্র সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর)পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের। আর ঋণপত্র নিস্পত্তি করা হয়েছে এক হাজার ৪৫৪ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলারের।যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে পাঁচ দশমিক ০১ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি।

আলোচ্য সময়ে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৭১ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের।আর ঋণপত্র নিস্পত্তি করা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের। এ হার মোট ঋণপত্র খোলার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ।যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ২৭.৮৭ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ২৮.২৮ শতাংশ বেশি।এর মধ্যে খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।এ সময়ে এসব খাদ্যশস্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫৫ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের। আর ঋণপত্র নিস্পত্তি করা হয়েছে ৬০ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের।এ ঋণপত্র খোলা ও নিস্পত্তির পরিমাণ ২০১২ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে যথাক্রমে ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ ও ১০৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১১৬ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের আর নিস্পত্তি করা হয়েছে ১২৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের এ হার গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় খোলার ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।

এ ৫ মাসে মধ্যম সারির পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১২২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারের আর ঋণপত্র নিস্পত্তি করা হয়েছে ১২৩ কোটি ৮২ লাখ ডলারের। এর পরিমাণ মোট ঋণপত্র খোলার ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর এ হার ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

এ ৫ মাসে শিল্পের কাঁচামালের জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের আর নিস্পত্তি করা হয়েছে ৫৯৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের।এর পরিমাণ মোট ঋণপত্র খোলার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ৪১ শতাংশ। এ হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

আলোচ্য সমযে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১১৭ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার এবং নিস্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯৪ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের। এর পরিমাণ মোট ঋণপত্র খোলার ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।এ হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ২৬ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি।

বিভিন্ন শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৭০ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। আর নিস্পত্তি করা হয়েছে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর পরিমাণ মোট ঋণপত্র খোলার ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।এ হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খোলার ক্ষেত্রে ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বেশি।

অন্যান্য ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৭৩ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ লাখ ডলারের এবং নিস্পত্তি করা হয়েছে ১৬৬ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। এর পরিমাণ মোট ঋণপত্র খোলার ১১.২৬ শতাংশ এবং নিস্পত্তির ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর এ হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম এবং নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

কেএফ