প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের ছায়ায় দুর্নীতিবাজরা !

hasina

hasina...nw_গত পাঁচ বছরে মহাজোট সরকারের অনেক মন্ত্রী সম্পদে ফুলে-ফেঁপে উঠলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখছেন না। দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের সম্পদ বেড়েছে বলেও মনে করেন না তিনি। তার সরকারের উন্নয়নে পুরো জাতির আয় ও সম্পদ বাড়ায় মন্ত্রীদেরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মলনে তিনি স্নেহের ছায়ায় দুর্নীতিবাজদের ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। সংবাদ সম্মেলনে কিছু মন্ত্রী ও নেতার সম্পদের অস্বাভাবিক স্ফীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমন কি নিজের জীবন থেকে উদাহরণ টেনে আনেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, সময়ের পরিবর্তনের ফলে সবারই আয় বেড়েছে। রাজনীতিবিদরাও তার বাইরে নন।

সোমবার বিকেলে গণভবন মাঠে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় পরিবর্তনের ফলে সবার আয়, বেতন, জিনিসের দাম ও সম্পদ সবই বেড়েছে। তাই রাজনীতিবিদদেরও সম্পদ বেড়েছে।

উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বিয়ের সময় স্বর্ণের ভরি ছিল ১৩০ টাকা। এখন তার দাম কত? বর্তমান দামে হিসাব করে কেউ বলতে পারেন আমি অনেক সম্পদের মালিক।

একই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতার উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক সময় পোশাক শ্রমিকদের বেতন ছিল এক হাজার ছয় শ টাকা। এখন তাদের বেতন পাঁচ হাজার টাকা। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই সবার বেতন ও জিনিসের দাম বেড়েছে। তাই রাজনীতিবিদদেরও আয় বেড়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি কোনো দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিব না। যারা অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনগত ব্যবস্থা নিবে। সেখানে আমার কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না।

(সুশাসনের জন্য নাগরিক)সুজনের জরিপ:

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুজনের প্রকাশিত জরিপ দেওয়া হলো-৪৮ প্রার্থীর আয় গড়ে ৫৮২ ভাগ এবং সম্পদ ৩৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ২৪৩ ভাগ, প্রতিমন্ত্রীদের ৪৬৪ ভাগ ও জাতীয় সংসদের উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপদের বেড়েছে ৩০৭১ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকারের গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৬ ভাগ ও ৪৪৩৫ ভাগ।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্পদ ৪৬ ভাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের সম্পদ ২৩৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবদুল মান্নান খানের সম্পদ ১০৯৯৭ ভাগ, নূর-ই-আলম চৌধুরীর ৬৪২৪ ভাগ, মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের ৩৮৯২ ভাগ, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ১৯৬৯ ভাগ, মির্জা আজমের ১৪১৪ ভাগ, মাহবুবুর রহমানের ১২৬৩ ভাগ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ১১৩৫ ভাগ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ছে।

জিইউ