বিরোধী দল না থাকায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি: ইডব্লিউজি

Elactionদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনী বৈধতা থাকলেও এতে প্রধান বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় এটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সোমবার ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) এ কথা বলেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, চলতি বছরের নির্বাচনের চেয়ে ৯৬ সালের নির্বাচনের গুণগত মান ছিল উন্নত।

সংগঠনটি ৪৩টি জেলার ৭৫টি সংসদীয় এলাকার ১ হাজার ৬৮৯টি ভোট কেন্দ্রে মোট ৮ হাজার ৪৪৪ জন পর্যবেক্ষক দিয়ে নির্বাচনী কাজ পর্যবেক্ষণ করান। পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ভোট প্রদানের হার এই দুইটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাদের সীমিত পর্যবেক্ষণের অন্তর্বর্তী এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সংসদীয় নির্বাচনে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা মোটেও ছিল না। কিছু কেন্দ্র ভোটারবিহীন নিরুত্তাপ ছিল বরাবরই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা জালিয়াতির অনেক ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো সংসদীয় এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষকদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে পর্যবেক্ষণে সরকারি কোনো বাধা না থাকলেও এক পর্যায়ে তারা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ স্থগিত করতে চেয়েছিল বলে জানান। কিন্তু কেন স্থগিত করতে চেয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব তারা এড়িয়ে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০১ সালে ভোট প্রদানের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে এ হার ছিল ৮৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে।

সকাল ১০টায় ভোট প্রদানের হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরবর্তী আড়াই ঘণ্টায় অর্থাৎ সাড়ে ১২টায় ভোট প্রদানের হার তিনগুণ বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ; সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অর্থাৎ বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণের শেষ সময়ে সকালের তুলনায় পাঁচগুণেরও বেশি হারে বেড়ে ভোট প্রদানের হার হয়েছে ৩০ শতাংশ।

তাদের পর্যবেক্ষণকৃত সংসদীয় এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদানের সর্বনিম্ন হার ছিল ঢাকা-১৭ আসনে। এখানে ভোট প্রদানের হার ছিল মাত্র ৬.৪ শতাংশ। আর ভোট প্রদানের সর্বোচ্চ হার ছিল গোপালগঞ্জ-১ আসনে। এখানে ভোট প্রদানের হার ছিল ৭৪ শতাংশ।

এ পর্যবেক্ষকদলে ২৬টি সদস্য এনজিও ছাড়াও সদস্য বহির্ভূত ৭ টি এনজিও অংশগ্রহণ করেছে।

ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষণকৃত এলাকায়,ভোট কেন্দ্রের বাইরে মোট ৭২ টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ২৩ টি এবং রংপুর বিভাগে ২১ টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তারা।

এ ছাড়াও ভোটকেন্দ্রের ভেতরে তারা মোট ৪৭ টি সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে। এসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে রংপুর বিভাগে।

ইডব্লিউজির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে ২১ টি। আবার ভোটারদের জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ৫টি ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

তাদের পর্যবেক্ষণে ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও পুড়িয়ে ফেলা, কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের মতো অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব কারণে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভোটকেন্দ্র ত্যাগসহ ভোট গ্রহণের কাজ মাঝে মাঝে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

২টি সংসদীয় আসনে ১৩০ জন পর্যবেক্ষক যাওয়ার কথা থাকলেও সেসব আসনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই মাত্র ৭২ জনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান তারা।

সংগঠনের পরিচালক মো.আব্দুল আলীমের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সদস্য এ এইচ এম নোমান, সদস্য তালেয়া রেহমান, হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

জেইউ/