হরতাল-অবরোধে রেলের শিডিউল বিপর্যয়

Hortal-Oborodh-Komlapur_06.01.14_Dominic--1১৮ দলের ডাকা নির্বাচনপরবর্তী টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘন কুয়াশা, ধীর গতি ও নাশকতার আশঙ্কায় এমন অবস্থা বলে জানা গেছে। এর ফলে স্টেশনে আসা যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে।

আজ সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে ট্রেনগুলো। নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরে পৌঁছাচ্ছে স্টেশনে। আবার খুলনা থেকে গতকালের ট্রেন চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছেনি। সুন্দরবন এক্সপ্রেসটি  সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে বেলা ১২টা পেরুলেও স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি ট্রেনটি।

কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল থেকে তুরাগ, দেওয়ানগঞ্জ, ধুমকেতু, পারাবত, মহানগর গোধূলী, কর্ণফুলি, মহানগর প্রভাতীসহ রংপুর এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীরা অনেকে অভিযোগ করলেন নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি।

এইচ এম আতিকুজ্জামানের স্ত্রী হাসপাতালে। স্ত্রীকে দেখতে গতকাল খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসে টিকেট কিনে ছিলেন তিনি। এদিন ট্রেন না আসায় ওই টিকেট বাতিল করে আবার সুন্দরবন এক্সপ্রেসে টিকেট কিনেন তিনি। তবে বেলা সাড়ে ১১টা বাজলেও ট্রেনের দেখা নেই। তিনি খুলনায় আজও যেতে পারবেন কি না তা-ও নিশ্চিত হতে পারছেন না।

একই ভোগান্তিতে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের মোহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ। সকাল থেকে স্টেশনে বসে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের দেখা মিলছে না তার। আতিক আর এমদাদের মতো অনেকেই এভাবে জানালেন তাদের ভোগান্তির কথা। ট্রেন না পেয়ে স্টেশনে বসে কষ্ট পাচ্ছেন তারা। যাত্রীরা বলছেন, শীতের সকালে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

কমলাপুর স্টেশনের ব্যাবস্থাপক খায়রুল বাশার অর্থসূচককে জানান, সকাল থেকে প্রতিটা ট্রেন ছেড়ে গেলেও ঘন কুয়াশা ও ধীর গতির কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানান, এখনও ট্রেনগুলো প্রায় ৩০ কিলোমিটার ধীর গতিতে চলছে। যা অন্য সময়ে চলতে ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার।

ঘন কুয়াশার কারণে তা আরও ধীরে চলছে বলে জানান তিনি। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িগুলো স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া হরতালে এখনও নাশকতার হুমকি থাকায় একটু সতর্কভাবে আসতে হচ্ছে।

 

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ট্রেন আসলে আমরা সেটাকে যত দ্রুত সম্ভব ছাড়ার ব্যবস্থা করছি। তবে স্টশনে না আসলে এটা করা তো আর সম্ভব হচ্ছে না।’ তাছাড়া ঘন কুয়াশা আর ধীর গতিতে চলা চলে এখন একটু বিলম্বে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।’

এসইউএম/ এআর