অর্থনীতির দুঃসময় কাটছে না

track_in_portরাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংঘাতের কালো ছায়া থেকে বের হতে পারছে না দেশের অর্থনীতি। হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় ইতোমধ্যে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতির চাকা।

শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে গেছে। নির্বাচন ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সংঘাতে অর্থনীতির ওপর এ দুর্যোগ নেমে এসেছে। কিন্তু রোববার ভোট গ্রহণ সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পরও মুক্তির কোনো আভাস দেখা যাচ্ছে না। বরং দীর্ঘ মেয়াদি সংকটের আশংকা প্রবল হয়ে উঠছে।

রোববার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে বিরোধী জোট তা বাতিলের দাবিতে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহে আহূত অবরোধ কর্মসূচি অনির্দিষ্টকাল চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সোমবার ভোর থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করেছে তারা। এদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাদের আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করার ঘোষণা দিয়েছে। দুই দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে অস্থিরতা অনেক দিন চলবে, আর তার করুণ শিকার হবে দেশের অর্থনীতি।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে ইতোমধ্যে প্রায় ৩শ কোটি ডলারের অর্ডার হাতছাড়া হয়ে গেছে। শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ ১০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। কমেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও। নির্মাণসহ সব ধরনের শিল্পে চলছে স্থবিরতা। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতি হয়ে পড়েছে ধীর। এসব কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।

গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি চলছে। এসব কর্মসূচিতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকছে। যেসব কারখানা খোলা থাকছে সেগুলো পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। স্থানীয় বাজার ও রপ্তানিমুখী-সব ধরনের কারখানাই এ সমস্যার মধ্যে।

অবরোধে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে সময় মতো কাঁচামাল আসছে না শিল্প-কারখানায়। এতে হয় উৎপাদন বন্ধ থাকছে, না হয় উৎপাদন ক্ষমতার আংশিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবার উৎপাদিত পণ্য ডিলার-এজেন্ট তথা ক্রেতার হাতে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলেও অনেক প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হয়েছে। রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো, বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদিত পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ করতে পারছে না। ফলে হয় তাদেরকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বিমানে করে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, না হয় দিতে হচ্ছে মূল্য ছাড়। এছাড়া অর্ডার বাতিলের ঘটনা তো আছেই।

শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও চলছে একই অবস্থা। এসব শিল্পের উৎপাদন ও বিপণন রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে টানা হরতাল-অবরোধে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের কৃষি অর্থনীতি। গত দুই-আড়াই  মাসে দেশের পণ্য পরিবহন ও বাজার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য পচে নষ্ট হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে চলে যাবে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।