নির্বাচনোত্তর ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু

dw
ফাইল ফটো

দেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে গতকাল। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোটের অংশ না নেওয়া নির্বাচনের উষ্ণতা কমিয়ে দিলেও কমাতে পারেনি রাজনৈতিক উত্তাপ। বরং তা আরও বেড়েছে। বিরোধী ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন ও এর ফল বর্জনের ধারাবাহিক কর্মসূচি হিসেবে এবং নির্বাচনী সহিংসতায় সারা দেশে নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে আবারও হরতালের ডাক দিয়েছে। আর সকাল ছয়টা থেকেই শুরু হয়েছে বিরোধী জোটের হরতাল কর্মসূচি। তবে সকালে রাজধানীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

গত রোববার সন্ধ্যায় জোটের পক্ষে বিএনপি নেতা ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক এই কর্মূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চলমান টানা অবরোধের পাশাপাশি  নির্বাচন বাতিল ও দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে আবারও সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার টানা হরতাল চলবে।

উল্লেখ্য নির্বাচনের আগে গত ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা হরতালের পর সোমবার থেকে আবারও ৪৮ ঘণ্টার এই হরতালের ডাক দিল জোটটি।

১৮ দলীয় জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া সারা দেশে ১৪৭ টি আসনে আজ সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন শুরু হয়। তবে নানা ঘটনার কারণে ওই সব এলাকার মোট ১৩৯ টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহন বন্ধ হয়ে যায়, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ও দুবৃত্তদের হামলায় নির্বচনী কর্মকর্তা খুনসহ ১৪ জনের নিহত হওয়া, প্রার্থীতা প্রত্যাহার, ভোট কারচুপির অভিযোগও হয়েছে অনেক।

এই অবস্থায় ফলাফলে দেখা যায় ১৫৩ আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় রোববারের নির্বাচনে ১৪৭ আসনের মধ্যে

আওয়ামী লীগ ১০৬ টি আসনসহ মোট ২৩০ টি আসনে জয় লাভ করে।

তবে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ওই ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করে একে প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যা দেওয়া হয়। আর ভোট কেন্দ্রে ভোটার কম উপস্থিকে জনসাধারণের প্রত্যাখ্যান হিসেবে বলা হয়েছে।

ওসান ফারুক মন্তব্য করেন, একতরফাভাবে করা আজকের এই  প্রহসনমূলক নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের জন্যে ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ওসমান ফারুক বলেন, জনগণের কোনো সমর্থন এ নির্বাচনে ছিল না। নির্বাচন মেনে নেয় নি তাই সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালিয়েছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। অনেক ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে এ সময় দাবি করেন তিনি। এছাড়া ফলাফল আগে থেকেও নির্ধারিত ছিল বলে জানান।