হতভাগা ৪৭ ভোটকেন্দ্র

Pray_For_Voterসংঘাত-সংঘর্ষ,কেন্দ্র ভাংচুর, ভোট গ্রহণ স্থগিত-বাংলাদেশের নির্বাচনে নতুন নয়। তবে ভোটকেন্দ্র বহাল তবিয়তে থাকার পরও কোনো ভোটারের দেখা না পাওয়ার মত বিরল ঘটনা এর আগে আর ঘটেনি। এবার ঘটেছে। আর তা একটি দুটি নয়, প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রে ঘটেছে এ ঘটনা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৭ কেন্দ্রে একটিও ভোট পড়েনি। কেন্দ্রে আয়োজনের পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ, ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার-সবই ছিল। ছিল না শুধু ভোটার। তাদের জন্য ডালি সাজানো ছিল। সারাদিন প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্যারা বসে ছিলেন ভোটারের প্রতীক্ষায়। কিন্তু হতাভাগা কেন্দ্রগুলোতে কোনো ভোটারের পায়ের ছাপই পড়েনি। আবার শতাধিক কেন্দ্রে ভোট পড়েছে একটি/দুটি। প্রিজাইডিং অফিসার, এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার-পুলিশরা পর্যন্ত ভোটারের দেখা পেতে হা পিত্যেশ করেছেন।

কেন্দ্রগুলো হচ্ছে-সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কল্যাণপুর রওশনারা দাখিল মাদ্রাসা,কলাগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিএসসি গয়নাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চরনবীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়; সাতক্ষীরা সদর আসনের শিবপুর ইউনিয়নের গোদাঘাটা কেন্দ্র,আগরদাঁড়ি মহিলা মাদ্রাসা, ধলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইন্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)আসনের সরিষাবাড়ী বলারদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী  মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরসরিষাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাঘমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি।

একই চিত্র ছিল বগুড়া-৭ আসনের শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে।
সিলেটে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথে রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি।
কোনো ভোট পড়েনি রাজশাহীর চারঘাটের মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

কুড়িগ্রাম-১ আসনে নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর ইউনিয়নের ঝাউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র কোনো ভোটার ভোট দেননি।

লালমনিরহাটের সদর আসনের পাঁচ ইউনিয়নের ২৭টি কেন্দ্রে একজন ভোটারেরও দেখা পাওয়া যায়নি।