নির্বাচন শেষ হলেও শেষ হয়নি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

electionশেষ হলো আলোচিত ভোটের দিন। দেশে-বিদেশে বিস্তর আয়োজন, আলোচনা-সমালোচনা ঝড় তুলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও নির্বাচনের আগে থেকে চলে আসা উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না জাতির। নির্বাচনের আগে মনে করা হচ্ছিল নির্বাচন শেষ হলে আপাত কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। চলমান নাশকতা, সহিংসতা আর উদ্বেগ পিছু ছাড়বে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হতে না হতেই নির্বচনকালে নির্বাচন বিরোধীদের নেতাকর্মীর মৃত্যু এবং ‘প্রহসন মূলক’ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আবারও হরতাল ডেকেছে বিরোধী জোট। আজকের সারা দেশের বিভন্ন আসনে ভোটারদের কম উপস্থতি জোটটিকে নতুন ভাবে আন্দোলনের প্রেরণা যোগাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

১৮ দলীয় জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া সারা দেশে ১৪৭ টি আসনে আজ সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন শুরু হয়। তবে নানা ঘটনার কারণে ওই সব এলাকার মোট ১৩৯ টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহন বন্ধ হয়ে যায়, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ও দুবৃত্তদের হামলায় নির্বচনী কর্মকর্তা খুনসহ ১৪ জনের নিহত হওয়া, প্রার্থীতা প্রত্যাহার, ভোট কারচুপির অভিযোগও হয়েছে অনেক।

ভোটের আগের দিন থেকে ভোট গ্রহণের দিন রবিবার পর্যন্ত ঢাকার বাইরে কমপক্ষে দেড়শ ভোটকেন্দ্রে হামলা হয়েছে। আর ভোটকেন্দ্র হওয়ায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঢাকায়ও কয়েকটি কেন্দ্রে সহিংসতা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর ঢাকাসহ সারা দেশেই ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। কোনো কোনো কেন্দ্র দুপুর পর্যন্ত বলতে গেলে ফাঁকাই ছিল। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

এদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে এবারের নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কিছু বেশি। বিদেশি পর্যবেক্ষক মাত্র চারজন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে পর্যবেক্ষক ছিলেন এক লাখ ৬০ হাজার। বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন ৫৮৫ জন।

১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬ শতাংশ। এবার তার চেয়ে পরিস্থিতি ভালো নয় বলে জানান নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

কোনো কেন্দ্রে ব্যপক জালিয়াতির খবর বিভন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে ফলাও করে।

আর এই বিষয়গুলো পুঁজি করে বিরোধী জোট আন্তর্জাতিক মহলের দ্বারস্ত হতে পারে আবার নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ তৈরির।

এই অবস্থায় নির্বাচিত সরকারের ওপর বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক চাপ। আর সহিংসতা বাড়লে আসতে পারে অর্থনৈতিক অবরোধের মতো চাপও।

তবে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয়টি হচ্ছে সরকারের বিরোধীতা করতে গিয়ে বিরোধী জোট এর আগে যে ভাবে সাধারণের জানমালের ক্ষতি করেছে তা আবার আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রান হারাতে হতে পারে সাধারণ মানুষের, প্রেট্রোল বোমায় পুড়ে ভর্তি হয়ে কাতরাতে হতে পারে বার্ণ ইউনিটে।

তাই নির্বাচন শেষ হলেও স্বস্তি আসছে না মানুষের মনে। বরং বাড়ছে আবারও হরতাল, চলমান অবরোধ ও দমনের মতো কর্মকাণ্ড।