হোয়াইটওয়াশ হলো ইংল্যান্ড

Australia20140105131803

অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ খেলতে এসে চরম বিপর্যয়ে পরে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো ইংল্যান্ড। ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন টেস্টের পর সিডনিতেও বিশাল ব্যবধানে হারলো তারা।

শনিবার পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচের তৃতীয় দিনেই ২৮১ রানে হারে ইংল্যান্ড। ফলে এবারের ছাই’য়ের লড়াইয়ে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেতে হলো সফরকারী ইংল্যান্ডকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া:

প্রথম ইনিংস-৩২৬/১০ (স্মিথ ১১৫, স্টোকস ৬/৯৯)

দ্বিতীয় ইনিংস: ২৭৬/১০ (রজার্স ১১৯, বেইলি ৪৬, হ্যাডিন)
ইংল্যান্ড:

প্রথম ইনিংস-১৫৫/১০ (স্টোকস ৪৭, সিডল ৩/২৩)

দ্বিতীয় ইনিংস: ১৬৬/১০ (কারবেরি ৪৩,  হ্যারিস ৫/২৫)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৮১ রানের ব্যবধানে জয়ী

শেষ টেস্টে প্রথম দিকে ইংল্যান্ড ভালোভাবে শুরু করেছিলো নিজেদের ভালো বোলিংয়ে। কিন্তু স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান জমায় অস্ট্রেলিয়া। এর জবাবে ৫৮ দশমিক ৫ ওভার ব্যাট করে মাত্র ১৫৫ রানেই অলআউট হয় ইংল্যান্ড। এরপর অসিরা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৬ রান করতে সমর্থ হয়। ফলে সিডনি টেস্টে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪৮ রান। কিন্তু অ্যালিস্টার কুক বাহিনী দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এবারও দুই’শ না পেরোতেই ১৬৬ রানে অলআউট হয় তারা। ফলে টেস্টটিতে ২৮১ রানের বড় হারের সঙ্গে সঙ্গে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও পেতে হলো ইংলিশদের।

শনিবার টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষের চার উইকেটে সংগ্রহ করা ১৪০ রান নিয়ে রোববার ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। যখন স্বাগতিক দলের পক্ষে অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নেমেছিলেন ক্রিস রজার্স (৭৩) ও জর্জ বেইলি (২০)। পঞ্চম উইকেটের এই জুটিটি অসিদের ২০০ রানে নিয়ে গিয়ে থামে। যখন ৪৬ রান করে আউট হন বেইলি। কিন্তু রজার্স কোন ভুল করেননি। ১৬৯ বল খেলে ঠিকই ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট শতকটি তুলে নেন এই ওপেনার। যাতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটি উইকেট নেন বোর্থউইক।

এরপর হোয়াইটওয়াশ এড়ানো কিংবা সান্ত্বনার জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। কিন্তু ৪৪৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় মোটেই পরিস্থিতি অনুকূল শুরু করতে পারেনি অ্যালিস্টার কুক বাহিনী। দলীয় সাত রানেই প্রথম উইকেট হারায় ইংলিশরা। যা আর থামেনি। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতি উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। তাও মাত্র ৩১ দশমিক ৪ ওভারেই। ফলে ২৮১ রানের বড় ব্যবধানে হার মানতে হয় ইংলিশদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন দলটির ওপেনার কারবেরি। অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিস পাঁচটি উইকেট নেন। ম্যাচ অব দ্য ম্যাচও হন অসি এই পেসার। আর শেষ ইনিংসেও ৪০ রানে ৩ উইকেট নেয়া জনসন সিরিজে ১৪ গড়ে ৩৭ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য সিরিজ হন।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন রায়ান হ্যারিস (অস্ট্রেলিয়া)। এবং ম্যান অব দ্য সিরিজ  হয়েছেন একই দলের মিশেল জনসন।

এইউ নয়ন