ভার্চুয়ালে ছবি দেখে স্বাদ পাবেন রিয়ালে!

Dr Ellen Do Yi-Luen_Dr Ranasinghe_Ms Lee Kuan-Yiআমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা মিষ্টি দেখলে ডাক্তারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তা খাওয়ার জন্য রীতিমতো কাকুতি-মিনতি শুরু করেন। কিন্তু ডায়বেটিকস সমস্যার কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বিপদসীমা ছাড়াতে পারে এই ভয়ে তাদের মিনতি রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। মিষ্টির মতো এমন অনেক খাবার আছে যার প্রতি মানুষের দূর্নিবার আকর্ষণ থাকে, এই আকর্ষণ ক্ষেত্র বিশেষে আসক্তিকেও হার মানায়। কিন্তু নানা রকম স্বাস্থ্যগত বাঁধার কারণে সেসব খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, এমন এক যন্ত্র আবিস্কার করা হয়েছে সম্প্রতি যার সাহায্যে কম্পিউটার বা অনলাইন খাবারের স্বাদ নেওয়া যায় ! শ্রীলঙ্কার ইঞ্জিনিয়ার নিমেষ রানাসিংঘে এবং তার দলবল মিলে সিঙ্গাপুরের কিও-এনইউএস কিউট সেন্টারে বানিয়েছেন এই যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে এখন থেকে কম্পিউটার বা ভার্চুয়াল জগতে পছন্দের খাবারের ছবি দেখার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাদও নিতে পারবেন যে কেউ।

রানাসিংঘের দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই যন্ত্র মূলত রুপার বিদ্যৎবাহী একটি তারের মধ্যে তড়িত্প্রবাহের মাত্রা ও তাপমাত্রার হেরফের ঘটিয়ে বিভিন্ন স্বাদের অনুভূতি সৃষ্টি করে থাকে। বিদ্যুৎবাহী তারের মাধ্যমে সেই বিভিন্ন ধরণের স্বাদ তৈরির নিয়মাবলিও রয়েছে।

গবেষক দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ ও তাপমাত্রার হেরফের ঘটিয়ে স্বাদের যে এমন পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব, তা আগে কখনও ভাবাও হয়নি। এই যন্ত্র ব্যবহার করে ডায়াবেটিসের রোগীরা সহজেই মিষ্টির স্বাদ নিতে পারবেন, অথচ তাদের রক্তে শর্করার মাত্রার হেরফের হবে না। ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি চলাকালীন তাদের মুখের স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রেও এই যন্ত্রের সাহায্যে সব খাবারেরই স্বাদ নিতে পারবেন তারা।

জানা গেছে, রুপোর তড়িতবাহী একটি তার জিভের ডগায় ঠেকলে জন্ম দেয় বিভিন্ন সিগন্যালের। এতে টক, ঝাল, মিষ্টি, নোনতা ও তেতো এই মৌলিক স্বাদ তৈরি হয়। এই মৌলিক স্বাদের সংমিশ্রণে আবার তৈরি করা যাবে আরও বিভিন্ন মজাদার স্বাদ।

তবে, যন্ত্রটি এখনো অঙ্কুর অবস্থায় রয়েছে, বিভিন্ন স্বাদের আভাসটুকু দিতে সক্ষম। অবশ্য সেই স্বাদের অনুভব আরও তীব্রতর ও স্পষ্ট করার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে রানাসিংঘের দল।