কারচুপির অভিযোগ: ২৬ প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

ec

ec2বিরোধী দল বিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ১৪৭টি আসনের জাপা, জাসদ ও স্বতন্ত্র’র মোট ২৬ জন প্রার্থী এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রসাশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ, সরকারি দলের বাধা, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, এজেন্টদের কাছ থেকে ভোটার তালিকা ছিনতায়ের অভিযোগ এনে তারা নির্বাচন বর্জন করেন।

এর মধ্যে রয়েছে-

ঢাকা-১৫: এ আসনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এখলাস উদ্দীন মোল্লা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দুপুর বারটার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসে নির্বাচন বর্জনের মৌখিক ঘোষণা দেন। পরে তিনি কমিশন বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

তার অভিযোগ ওই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার ভোট কারচুপি করেছে। এছাড়া কামাল মজুমদারের সমর্থকরা তার সমর্থকদের বিভন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে।

সরেজমিনে মিরপুর ৯৭ নং কেন্দ্র আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে, ইব্রাহিমপুর ও বাইশটেকে দেখা গেছে ভোটের লাইনে কয়েকজন তরুণ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কথা হয় রানা ও রাজের সাথে। উভয়ই পেরামাউন্ট ইন্টারন্যশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বয়স ১৭ বছর বলে জানান তারা।

রোববার সকাল থেকে ঢাকা ১৫ আসনের মনিপুর ২ ও ৩ নং ব্রাঞ্চ  ইব্রাহিমপুর, বাইশটেক ব্রাইট ডাউন কেন্দ্রগোলো ঘুরে দেখা গেছে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছিল বেশ তৎপর।

শেরপুর ২: সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বদিউজ্জামান বাদশা।এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিবার্চনকালিন সরকারের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

বাদশার অভিযোগ, সর্মথকরা আমার কর্মীদের ভয়ভীতি প্রর্দশন করছে। এ নিবার্চনের ডান-বাম করার সুযোগ নেই। এ নির্দেশনা সকল জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে। এখানে যেভাবে নেতৃত্বের প্রভাব এবং বলয় সৃষ্টি করা হচ্ছে তা দুঃখজনক আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন করেন।

বরিশাল ২: নির্বাচনে জালভোট প্রদান, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জেন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তার। রোববার দুপুর ১২টায় তিনি এ ঘোষণা দেন তিনি।

ইসি সূত্র জানা যায়, (উজিরপুর-বানারিপাড়া) এলাকা নিয়ে গঠিত বরিশাল ২- আসন। এ আসনে  প্রার্থী সংখ্যা তিন জন। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হলেন তালুকদার মুহাম্মদ ইউনুছ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাছির উদ্দিন নাছিম হাওলাদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তার (আনারস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

লক্ষ্মীপুর-৪: লক্ষ্মীপুরে দুই প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের (রামগতি-কমলনগর) তিন প্রার্থীর মধ্যে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন।

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া দুই প্রার্থী হলেন এ কে এম শরিফ উদ্দিন (ফুটবল) ও আজাদ উদ্দিন চৌধুরী (হরিণ)।নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

নারায়ণগঞ্জ ১: এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত আলী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিযেছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী ও জাপার লাঙ্গল নিয়ে লড়ছেন জয়নাল আবেদীন।

জামালপুর-২: (ইসলামপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম লুইস ভোট কারচুপি ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে নিবার্চন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বেলা সোয়া ১১টায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নিবার্চন সুষ্ঠ হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তাই নিবার্চন বর্জন করলাম।

তিনি জানান, আওয়ামীলীগ সমর্থিত জাতীয় পার্টির কর্মীরা এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে এ অবস্থায় কি হবে বুঝতে পারছি না তাই এ নির্বাচন বর্জন করলাম।

সিরাজগঞ্জ-৫: (বেলকুচি-চৌহালী) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান রতন সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি ও নানা অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে বেলকুচির সোহাগপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (সদর ও বিজয় নগর) এলাকে নিয়ে গঠিত এ আসনটি। এখানে জেপি প্রার্থী ফরিদ আহমেদ নির্বাচন বর্জন করেছেন।

নিজের ভোট নিজে না দিতে পাড়ার অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।

ফরিদ আহমেদ বলেন, আমি আমার কেন্দ্র এসে দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে (ভোটার নম্বর ৪৩৩)।

উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর।

এছাড়া প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয় ১৩ ডিসেম্বর। তফসিল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে এক হাজার ১০৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২০৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

জিইউ