শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home চট্টগ্রাম ও বন্দর চট্টগ্রামে আতংকের মধ্যে ভোটগ্রহণ: দুটি কেন্দ্রে স্থগিত

চট্টগ্রামে আতংকের মধ্যে ভোটগ্রহণ: দুটি কেন্দ্রে স্থগিত

চট্টগ্রামে আতংকের মধ্যে ভোটগ্রহণ: দুটি কেন্দ্রে স্থগিত
ছবি: ফাইল ছবি

Vote---14ককটেল আর বোমাবাজির মধ্যেও চট্টগ্রামের ৯টি আসনের ১ হাজার ৪৩ টি ভোট কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ডে ও নগরীর কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে । এতে ৭ আনসার সদস্যসহ ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে চরম আতংক দেখা দেয় প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মীদের মাঝেও।

চট্টগ্রাম নগরীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে সকালের দিকে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে। তবে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা দাবী করছেন নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের মনে একধরনের আতংক কাজ করছে। নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল শনিবার রাত থেকে যে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা চলছে তা না ঘটলে ভোটার সংখ্যা আরো বাড়াতে পারতো।

এদিকে শনিবার রাতে সাতকানিয়ায় নির্বাচনী সরঞ্জাম লুট ও অগ্নি সংযোগ করায় ছদাহা আদর্শ মহিলা মাদ্রাশা এবং আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া, সকাল ১১ টার দিকে সাতকানিয়া চরতি ইউনিয়নের দুরদরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশের পাহাড় থেকে গুলি ও ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা।  নিরাপত্তাকর্মীরা পাল্টা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে সেখানে কোন ভোটারকে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্বাচনী এজেন্টরা।

আজ রোববার সকাল ১১ টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকার মান্দারী তোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১২ টির মতো ককটেল ও ৫ টির মতো রকেট প্লেয়ার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং নির্বাচন সরঞ্জাম বহনকারী খালি পিক আপে আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। এসময় কেন্দ্রটি পুরো খালি হয়ে যায় ।

এছাড়া শনিবার রাত থেকে নগরীর বন্দর থানার কলসি দিঘির পাড় এলাকায় আজিজিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যম হালিশহর এলাকায় আহমিদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসকর দিঘীর পাড় এলাকায় লোকপ্রশাসন কেন্দ্র, মোমিন রোড়ে কদম মোবারক স্কুলের সামনে, রহমতগঞ্জ, কাটগড় এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব স্কুলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলে  পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  জেলা ও নগরীর ১৬ আসনের মধ্যে   ৯টি আসনে ২৬ জন প্রার্থী ৯টি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।  বাকি ৭ জন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায়  বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ৯টি আসনের ১ হাজার ৪৩ কেন্দ্রে  ৫ হাজার ৫৮৩ ভোট কক্ষে ২৮ লাখ ২৮ হাজার ৩২ জান ভোটার রয়েছে । ভোটগ্রহণের কাজ করবেন ১ হাজার ৪৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার , ৫ হাজার ৫৮৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১১ হাজার ১৬৬জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা গেছে। গতকাল রাত থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে । আরো ৫ হাজার পুলিশ, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও ৮০০ সেনা সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকছে।