এ দুঃখ যাবে না সুপ্তির

Supti_2অনেকের কাছেই বিষয়টাকে মনে হবে খুবই সামান্য, তুচ্ছ। কিন্তু লালবাগের সুপ্তির কাছে এটি হয়ে থাকবে অন্যরকম এক দু:খের স্মৃতি হয়ে। ভোটার হয়েও যে ভোট দিতে পারল না।

রাজধানীর লালবাগের বিমল দাসের মেয়ে সুপ্তি দাস। প্রথমবারের মত ভোটার হয়েছেন অষ্টাদশী সুপ্তি। ভোটার আইডি কার্ড হাতে পাওয়ার পর থেকে তার উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের প্রথম স্বীকৃতি যে এটি। এবার সেও পারবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ। পরিবারের বাইরে বৃহৎ পরিসরে প্রথমবারের মত নিজের পছন্দের প্রয়োগ ঘটাতে পারবে। আর তাই তখন থেকেই সে ছিল অধীর প্রতীক্ষায়। কিন্তু তার আশার গুড়ে বালি পড়েছে। ভোট কেন্দ্রে গিয়েও তিনি ভোট দিতে পারেন নি। কারণ তার ভোটটি যে আগেই দিয়ে গেছে কেউ একজন।

অর্থসূচককে তিনি বলেন, নানা কারণে মানুষ এবার ভোট দিচ্ছে না। কিন্তু জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগটি তিনি নষ্ট করতে চান নি। হোক না এ নির্বাচন যতই বিতর্কিত। তাই অনেক   ঝুঁকি নিয়েই তিনি ভোট কেন্দ্রে এসেছিলেন। প্রায় ভোটারশূণ্য নির্বাচনেও কেউ জাল ভোট দেবে, জীবনের একটি অনন্য অভিজ্ঞতা থেকে তাকে বঞ্চিত করবে-এমনটি তিনি ভাবতে পারেন নি।

সুপ্তির মা বাসন্তি দাস আক্ষেপ নিয়ে বলেন, মেয়েকে নিয়ে এবারই প্রথম ভোট দিতে এসেছিলাম। আমি ভোট দিয়ে যতটা না আনন্দিত হয়েছি, মেয়ে ভোট দিতে না পারায় তার চেয়ে বেশি বেদনা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

লালবাগ কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ আরও অনেকেই করেছেন। লালবাগ কেন্দ্রের ৫৮ বছর বয়সী ভোটার আবদুল খালেক বেলা সাড়ে ১২ টায় এসে দেখেন তার ভোটটি অন্য কেউ দিয়ে চলে গেছে। এ কেন্দ্রের জমিলা খাতুন, জোহরা খাতুন ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে এসেও ভোট দিতে পারেন নি। কারণ নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ভোটার তালিকার সঙ্গে কার্ডে উল্লিখিত নাম্বার মিলছে না।