রংপুর-৩ আসনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬ শতাংশ

Rangpur Photo(3)(Votar Nai) 05-01-14.doc-1দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে ভোটারদের আগ্রহ খুব কম দেখা গেছে।  বেলা ১২ টা পর্যন্ত এ আসনের ১২ টি কেন্দ্রে মাত্র ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। কার্যত কেন্দ্রগুলো দুপুর পর্যন্ত ছিলো ভোটার শূন্য।

 

সরেজমিনে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কোন কেন্দ্রেরই মাঠে ভোটার নেই। আইনশৃংখলা বাহিনীও বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। আতঙ্ক থাকায় মানুষ ভোটমুখি হতেই চাইছেন না বলে জানিয়েছেন এখানকার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

রংপুর-৩ (সদর ও আংশিক গঙ্গাচড়া) আসনের উল্লেখযোগ্য ভোট কেন্দ্র মহানগরীর জিএল রায় রোডে অবস্থিত লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গন। এখানকার ভোটারদের প্রায় ৯০ ভাগই শিক্ষিত, ব্যাবসায়ী ও সচেতন হিসেবে পরিচিত। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার আছেন ২ হাজার ৫২৩ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার আতিকুজ্জামান জানান, দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৩৬টি। আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪৫১ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার আনসার আলী জানান, কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে ১৩৪টি।

 

অন্যদিকে জামালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম (১০০) ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৬০৫ জন। প্রিজাইটিং অফিসার শফিকুল আসলাম জানান, চারটি বুথে ভোট পড়েছে ১০০টি। দ্বিতীয়(৯৯) কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২ হাজার। প্রিজাইটিং অফিসার সুনীল কুমার সরকার জানান, এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৭০ টি।

 

এদিকে এই আসনে নগরীর বাইরের কেন্দ্র নগর মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা  ১ হাজার ৫৬৩ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার রাকিবুল ইসলাম জানান, ১২ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৩ টি। এই এলাকার মীরগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটার আছে এক হাজার ৬৪৭ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার অনপুস্থিত না থাকায় অপর কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার রাকিবুল ইসলাম দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, সকাল ১২ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১১০ টি।

 

অন্যদিকে  ধর্মদাস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬২৫ জন। এখানকার প্রিজাইটিং অফিসার আব্দুর রহমান জানান, বেলা ১২ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১৪০ টি। বড় রংপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোটার আছেন  এক হাজার ৯৯১ জন।  এরমধ্যে ১০৯ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রিজাইটিং অফিসার আহমেদ শরীফ। রঘু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা এক হাজার ২০ জন। প্রিজাইটিং অফিসার নাজমুল ইসলাম জানান, এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ২০টি। আজিজুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার আছেন এক হাজার ৮০০ জন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার ইব্রাহিম জানান, এ পর্যন্ত ৪৬ টি ভোট পড়েছে।

 

মডেল কলেজ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৯৯ জন। প্রিজাইটিং অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, ১২ টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে  ৪৪৭ জন ভোট দিয়েছেন।

 

রংপুর-৩ আসনের এই ১২ টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ঘুরে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২১ হাজার ৩১৪ জন ভোটেরের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২৮৫ জন ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ মাত্র ৬ শতাংশ ভোটার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

 

মহানগরী ছাড়াও আশেপাশে এলাকা এবং রংপুর-৪ কাউনিয়া পীরগাছা এবং রংপুর-৬ পীরগঞ্জের ভোট কেন্দ্রেও ভোটার নেই।  জনগন কোনভাবেই ভোট দিতে বাড়ির বাইরে বের হতে চাইছেন না  বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বিরোধী দলের নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণায় এবং শনিবার রাতভর আগুন ভাংচুর বোমা বিষ্ফোরণের কারণে মানুষ ভোট দিতে বের হতে ভয় পাচ্ছে। তাছাড়া সকাল থেকে শীত হওয়ার কারনেও মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ফলে ভোটও পড়ছে কম।  তবে ভোটারদের নিরাপত্বা নিশ্চিত করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।