বিদেশি গণমাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

bbcবিরোধী দলের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতালের মধ্যে আজ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের অর্ধেকের বেশি আসনের প্রার্থীরা ভোটভোটি ছাড়াই নির্বাচিত হওয়ার পর আজ রোববার সকাল আটটা থেকে দেশের ১৪৭ টি আসনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশের মানুষের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘কার্যত একদলীয়’ এই নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ-উদ্দীপনা নেই। নির্বাচন বর্জনকারী বিরোধীদের বরাত দিয়ে এই নির্বাচনকে বিশ্ব-মিডিয়ায় ‘জঘন্য প্রহসন’র নির্বাচন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, বিরোধীদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও হতাহতের মধ্যে বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ। নির্বাচনের প্রাক্কালে কমপক্ষে ১০০ নির্বাচন কেন্দ্র পুড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষমাতাসীন প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচুর আসনে জয়লাভ নিশ্চিত হওয়ায় আজ শেখ হাসিনার বিজয়ও নিশ্চিত।

সিএনএন’র খবরের সূচনায়ও একই কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের গর্ভাংশের একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক মাসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছে। দেশটির সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অব্যাহতভাবে নির্বাচন বাতিল করার আহবান জানানো সত্ত্বেও আজ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

রয়টার্স’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন বর্জন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় শ’ খানেক মানুষের নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আজ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন’শ আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও কম আসনে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তথাকথিত এই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের জয় নিশ্চিত।

আল-জাজিরা’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে অগ্নি-সংযোগ ও শতাধিক লোকের নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আজ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কার্যত একদলীয় এই নির্বাচনে নিশ্চিতভাবে আবারও বিজয়ী হতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন নেত্রী শেখ হাসিনা।

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে কমপক্ষে ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নি-সংযোগ ও নিদেনপক্ষে দুই জনের নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের আহুত ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে বাংলাদেশে আজ বিতর্কিত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনকে ‘জঘন্য হটকারিতা’ আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের আহবান জানানো হয়েছে।

দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে,  আজ রবিবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। নির্বাচনের ফল পূর্ব-নির্ধারিত। কিন্ত্ত তার পর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসিনা-খালেদার এবারের দ্বন্দ্ব বাংলাদেশকে ঠেলে দিতে পারে বড়সড় বিপর্যয়ের দিকে। যার অনুঘটক হতে চলেছে আজকের ভোট।

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশান্তির বাতাবরণেই বাংলাদেশের ১৪৭ টি আসনে চলছে ভোটগ্রহণ। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ১৫৩ জন প্রার্থী। ফলে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না প্রায় ৫ কোটি ভোটার। বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। গতকালও ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। চলছে তাদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও। ১৮ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। হিংসার আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।