রাজশাহীতে দুই ঘন্টায় দুইটি কেন্দ্রে দুইশ ভোট

Rajshahi

Rajshahi Mapসকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহী-৩ আসনের দুইটি কেন্দ্রে দুইশ ভোট পড়েছে। পবা উপজেলার বায়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বায়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা।

 

রাজশাহী জেলার দুটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণভাবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহন শুরু হয়েছে। রোববার রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) এবং রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

 

জেলার বাকি ৪টি সংসদীয় আসনে আসনে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এ চারটি আসনে ভোট হচ্ছে না।

 

প্রতিটি কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ন রাখতে বিপুল পরিমাণ আনসার, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছে।

 

তবে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও নির্বাচনের আমেজ নেই। নির্বাচন নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে যেনো কোনো আগ্রহই নেই। সকাল ৯ টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন নির্বচন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটা এলাকার বাসিন্দা খন্দকার খালেকুর রহমান জানান, নির্বাচন ঘিরে তার এলাকায় তেমন কোনো উৎসব মুখর পরিবেশ নেই। কারণ সবাই এখন আতংকে রয়েছেন।

 

পবা উপজেলার বড়গাছি এলাকার আমজাদ হোসেন জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা গোপনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট দিতে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করছেন। এসব কাজ সবার সামনে না হলেও আত্মীয় অথবা প্রতিবেশী সেজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছেন।

 

মোহনপুর উপজেলা সদর এলাকায় আকরাম হোসেন জানান, পাঁচ বছর পরপরে ভোট আসে। তাই ভোট তিনি দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন।

 

রাজশাহী-৩ আসনে এবার মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৩ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পবার উপজেলায় ২ লাখ ৪ হাজার ১৯৮ জন এবং মোহনপুর উপজেলায় ভোটার আছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৩৫ জন। দুই উপজেলায় ১১৮টি ভোট কেন্দ্রের ৬৫৭ ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিাকার প্রয়োগ করবেন। এ আসনের মোহনপুর উপজেলায় ৪২টি ভোটকেন্দ্রের ৪২টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ওই আসনের পবা থানার ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের ৩৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর তিন থানায় বাকি ৩৩টির বেশিরভাগই রয়েছে ওই তালিকায় বলে জানিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ সূত্র।

 

অপরদিকে রাজশাহী -৬ আসনে এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮০৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে চারঘাট উপজেলায় এবার ভোটার আছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ জন এবং বাঘা উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯৩ জন ভোটার আছেন। দুই উপজেলায় ৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৫৮৭টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। বাঘায় ৪২টি এবং চারঘাটে ৩২টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

 

রাজশাহী-২ (পবা-মোহনপুর) আসনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আয়েন উদ্দিন (নৌকা প্রতীক), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা (কলস প্রতীক) ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চু (লাঙল প্রতীক) নিয়ে দশম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম এমপি (নৌকা প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রায়হানুল হক (প্রজাপতি প্রতীক) নিয়ে নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন।