ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪টি আসনে ৪৯৭ কেন্দ্রে ১৫ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীতা

B.Baria parrthiদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের ২ প্রার্থী।আর বাকী ৪টি আসনে অনেকটা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আর আতংকের মধ্য দিয়ে ৪৯৭টি কেন্দ্রে আজ  রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট।

 

হরতাল আর অবরোধের মধ্যে এসব ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঝুকিপূর্ণ  হিসাবে ৩৮৩টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।এর পরও ভোটারদের মাঝে নেই কোন উৎসাহ কিংবা উৎসবের আমেজ।সর্বত্রই ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে ভয় আতংক।

 

ভোটের আগে গত ২দিনে সদর আসনে ৪টি কেন্দ্র অগ্নিসংযোগ,কয়েকটি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ভোটারদের মাঝে যেন আরো আতংক বাড়িয়ে দিয়েছে।এছাড়াও রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের নির্বাচন প্রতিরোধে ঘোষণা।সব মিলিয়ে পুরো নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের পরিবর্তে বিরাজ করছে থমথমে ভাব।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে ৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে সে গুলো হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর),ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-( সদর- বিজয়নগর) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর)।

 

ইতিমধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-(কসবা-আখাউড়া) আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-বাঞ্চারামপুর) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ.বি তাজুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

বিরোধীদল বিহীন এই একতরফা নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪টি আসনে ১৫জন প্রার্থী থাকলেও ৩টি আসনে তেমন কোন প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বলে মনে হচ্ছে না।ভোটারদের উপস্থিতি যাই হউক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১,ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী যে বিজয়ী হচ্ছে তা ভোটাররা নির্দিধায় বলে বেড়াচ্ছে।

 

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ভোটের লড়াই অনেকটা জমে উঠেছে।এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নায়ার কবিরের পক্ষে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জিয়াউল হক মৃধার সহজ জয়টা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে।এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৮৯ হাজার ১২২জন। এই আসনে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক এম.পি (নৌকা), এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রোজোয়ান আহমেদ (লাঙ্গল)। এই আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক ইতিপূর্বে ৪ বার বিজয়ী হন।

 

নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক ও জাপা প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ নির্বাচনী মাঠে কোমর বেঁধে নেমেছেন। এই আসনে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সায়েদুল  হকের অবস্থান মজবুত।  নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৯২ হাজার ৫৯৩জন। এই আসনে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন ৭জন প্রার্থী। এরা হলেন, জাতীয় পার্টির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এম.পি (লাঙ্গল), জাসদ (ইনু) প্রার্থী আবু বকর মোঃ ফিরোজ (মশাল), জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামিলুল হক বকুল ( বাই সাইকেল), বিএনএফ প্রার্থী হাবিবুর রহমান (টেলিভিশন), নির্দলীয় প্রার্থী প্রার্থী নায়ার কবির (আনারস), আবু শামীম মোঃ আরিফ ( হরিণ) ও শাহ মোহাম্মদ মফিজ (তালা)।

 

তবে গত মঙ্গলবার জাসদ (ইনু) প্রার্থী আবু বকর মোঃ ফিরোজ (মশাল) ও গত বুধবার নির্দলীয় প্রার্থী শাহ মোঃ মফিজ ( তালা) বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছে। এই আসনে সমান্তরালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা (লাঙ্গল) ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীরের পতœী, নির্দলীয় প্রার্থী নায়ার কবির (আনারস)।

 

বাকী ৩ প্রার্থীর মাঠে তেমন প্রচার-প্রচারণা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত এই আসনে লাঙ্গলের সাথে আনারস প্রতীকের হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩- (সদর- বিজয়নগর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪লাখ ৪৫ হাজার ৯৯জন। এই আসনে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন ৪জন প্রার্থী। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকাদির চৌধুরী এম.পি (নৌকা), জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী ফরিদ আহমেদ ( বাই সাইকেল), বিএনএফ’র প্রার্থী জহিরুল হক ভূঁইয়া ( টেলিভিশন) ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ নাইমুদ্দিন ( মোমবাতি)। এই আসনে মাঠে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোকতাদির চৌধুরী এম.পি ( নৌকা) ও জেপি প্রার্থী ডাঃ ফরিদ আহমেদ। অন্য ২ প্রার্থীর কোন প্রচার-প্রচারণা নেই।এই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী র.আ.ম. উবায়দুল মোকাদির চৌধুরী এম.পি বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করছেন ভোটাররা।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫- (নবীনগর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৭৪ হাজার ৭২৮জন। এই আসনে লড়ছেন ২ জন প্রার্থী। এরা হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ ফয়েজুর রহমান বাদল ( নৌকা) এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জাতীয় পার্টির কাজী মামুনুর রশীদ (লাঙ্গল)।

 

নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ ফয়েজুর রহমান বাদল ( নৌকা) ও জাপা প্রার্থী কাজী মামুনুর রশীদ ( লাঙ্গল) নির্বাচনী মাঠে কোমর বেঁধে নেমেছেন। দুই প্রার্থীই প্রথম বারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। দিনরাত এই দুই প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় গনসংযোগ, কর্মীসভা ও নির্বাচনী সভা করছেন। এই আসনেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী ফয়েজুর রহমান বাদল  সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।