নতুন বেতন কাঠামো না মানার অভিযোগ; সংঘর্ষ-গুলি

cepzসম্প্রতি সরকার পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে । যা গত ডিসেম্বর মাস থকেই কার্যকর হওয়ার কথা।ওই কাঠামো অনুসারে শ্রমিকদের ন্যূনতম ৫৩০০ টাকা বেতন দেওয়ার কথা।কিন্তু সরকারি সেই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কয়েকটি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে। নগরীর চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) দুটি কারখানায় আজ শনিবার শ্রমিকদের আগের নিয়মেই বেতন দেওয়া চেষ্টা করা হয়।

এদিকে একক মালিকানাধীন সেকশন ও সেভেন নামের ওই কারখানা দুটিতে আগের কাঠামোতে বেতন দেওয়া হলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে।এর পরই উত্তজিত শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে।কারখানা দুটির  ৮ থেকে ১০ হাজার  বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে এবং কারখানা দুটি ভাংচুরের চেষ্টা করে।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস ছুড়াঁর পাশাপাশি শর্ট গানের গুলি ছুঁড়ে। এ ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছে।  গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন শ্রমিককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইপিজেড খানার ওসি আবুল মনসুর বিক্ষোব ও আহত হওয়া সতত্যা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকালে শ্রমিকরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে কারখানার বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারখানা ভাংচুরের চেষ্টা চালায়।এই অবস্থায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। তবে বেলা সাড়ে ১২ দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তাছাড়া আনুষাঙ্গিক যে সুযোগ-সুবিধার জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় তা করা হচ্ছে না ।

তারা অভিযোগ করেন, দুপুরের খারারের ফি বাড়ানোর পরও খাবারের মান না বাড়ানোসহ নারী শ্রমিকদের শারীরিক নির্যাতনের করা হয়।

তাদের অভিযোগ মালিক পক্ষ স্বেচ্ছাচারির মতো আচরন করেন তাদের সাথে।

তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে মালিক পক্ষের বরাত দিয়ে ওসি আবুল মনসুর জানান,  সকাল সাড়ে ৯ টারদিকে  শ্রমিকদের পুরাতন বেতন স্কেলে বেতন দেওয়া হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পরলে কারখানা দুটি’র শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। তবে তার দাবি পুলিশ শ্রমিকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তাদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন দেওয়া হবে।

এরপরই বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।