ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাজশাহী

Rajshahi

Rajshahi Mapনানা জল্পনা কল্পনা আর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আগামিকাল রোববার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজশাহী জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়। রাজশাহীতে জেলার  রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

রাজশাহীর দুইটি আসনে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাজশাহীর দুটি নির্বাচনী আসনের চার উপজেলায় ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যৌথবাহিনীর পাহারায় উপজেলা পর্যায়ে এসব নির্বচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলার বাকি ৪টি সংসদীয় আসনে আসনে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এ চারটি আসনে ভোট হচ্ছে না।

রাজশাহী-২ (পবা-মোহনপুর) আসনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আয়েন উদ্দিন (নৌকা প্রতীক), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা (কলস প্রতীক) ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চু (লাঙল প্রতীক) নিয়ে দশম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম এমপি (নৌকা প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রায়হানুল হক (প্রজাপতি প্রতীক) নিয়ে নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি আসনে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিতরা হলেন- রাজশাহী-১ আসনে বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), রাজশাহী-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা (ওয়ার্কার্স পার্টি), রাজশাহী-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক (আওয়ামী লীগ) ও রাজশাহী-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা (আওয়ামী লীগ।

রাজশাহী জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী-৩ আসনে এবার মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৩ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পবার উপজেলায় ২ লাখ ৪ হাজার ১৯৮ জন এবং মোহনপুর উপজেলায় ভোটার আছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৩৫ জন। দুই উপজেলায় ১১৮টি ভোট কেন্দ্রের ৬৫৭ ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিাকার প্রয়োগ করবেন। এ আসনের মোহনপুর উপজেলায় ৪২টি ভোটকেন্দ্রের ৪২টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ওই আসনের পবা থানার ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের ৩৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর তিন থানায় বাকি ৩৩টির বেশিরভাগই রয়েছে ঝুকিঁপূর্ণ তালিকায় বলে জানিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ সূত্র।

অপরদিকে রাজশাহী -৬ আসনে এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮০৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে চারঘাট উপজেলায় এবার ভোটার আছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ জন এবং বাঘা উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯৩ জন ভোটার আছেন। দুই উপজেলায় ৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ৫৮৭টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। বাঘায় ৪২টি এবং চারঘাটে ৩২টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

তবে ভোটগ্রহণের দিন ঝুকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ আনসার, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে সূত্র জানায়। বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হবে চেকপোস্ট। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া সকল প্রকারের যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারি রির্টানিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর দুটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। দুটি নির্বাচনী আসনের চার উপজেলায় ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। শনিবার সেগুলো প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা বাহিনী যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য বিশেষভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।