‘সন্ত্রাসের রাজনীতির দিকে চলে যাচ্ছে দেশ’

shamsul-haqসব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেছেন, বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে মনে হচ্ছে দেশ সন্ত্রাসের রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের র্বতমান সংকট শুধু রাজনতৈকি সংকট নয়, এটা এখন জনগণের স্বাভাবকিভাবে বেঁচে থাকার সংকটে পরিণত হয়েছে।

শনিবার বাংলাদেশ র্অথনীতি সমিতির উদ্যোগে রাজধানীর হোটেল লেকশোরে আয়োজতি ‘সহিংস রাজনীতি, সংকটে দেশ-ভবিষ্যত ভাবনা’বিষয়ক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

সেমিনারে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দনি আহমদে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমশিনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায ড. হারুন-অর-রশদি, সাংবাদিক আবেদ খানসহ বিশিষ্টজনেরা আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাত।

সৈয়দ শামসুল হক বলেন, বাংলাদেশের্ বর্তমান অবস্থা কোনোভাবইে ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। এখানে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয় চেতনা প্রত্যেকটি বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নির্বাচনে কে জয়ী বা পরাজিত হলো সেটা বড় বিষয় নয়, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ভালোভাবে চলছে কিনা সেটাই মুখ্য বিষয়।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যেভাবে মানুষ জেগে উঠেছিলো এখন সময় হয়েছে সেভাবে জেগে ওঠার। দেশের এ পরিস্থিতি কাটাতে বর্তমানে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ আবারও একতাবদ্ধ হবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

আবুল বারাকাত বলেন, আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বাড়ার কারণে দেশে মৌলবাদ জেগে উঠেছে। মৌলবাদীরা আজ গৃহযুদ্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে যা করতে পারেনি তারা আজ তা করবে বলে পরিকল্পনা করেছে। এ কারণে একটি রাষ্ট্রের  মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র, সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার, মূল অর্থনীতির ভিতরে আরেকটি মৌলবাদি অর্থনীতি দাঁড় করানো হয়েছে। দেশের মানুষ আজ ভীত সন্ত্রস্ত। সবাই এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজাদ চৌধুরী বলনে, আমাদের প্রধান বিবেচ্য স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস। এর বাইরে গিয়ে কারও সঙ্গে আপোস-করার সুযোগ নেই। কিছু র্অজন করতে আমাদের কিছু দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হব। তবে নৈতিক সাহসও রাখতে হবে। দুই মাস আগেও এই সহিংসতা ছিল না, এই বাংলাদেশ ছিল না। কিন্তি বাংলাদেশ এখন ১০টি সন্ত্রাসপ্রবণ রাষ্ট্রের একটিতে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়রে অধ্যাপক মজেবাহ কামাল বলেন, জামাতের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দেশীয় ও আন্তির্জাতিক উৎস থেকে অর্থ পেয়ে থাকে। তাদের এ অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। তাদের ব্যাংক, বীমা, হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হব।

তিনি আরও বলনে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে র্ব্যথ হয়েছে সরকার। আমাদের একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবতে হব। একাদশ নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য কাজ করতে হবে।এর পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করতে হবে এবং তাদের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে।