চলতি অর্থবছরে জুতা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ

Shoe-Factoryপাদুকা (জুতা) রপ্তানিতে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শিল্পের মূল   কাঁচামালের (চামড়া) সরবরাহ ভালো থাকায় অন্যতম রপ্তানি শিল্পে পরিণত হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই খাতটি। তাতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে জুতা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২৩ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের জুতা রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে কৌশলগত লক্ষ্যমত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার।যা আগের বছরের একই সময়ে মোট রপ্তানির তুলনায় ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে জুতা রপ্তানি হয়েছিল ১৭ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জুতা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

ইপিবি বলছে, জুতা রপ্তানি গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।এছাড়া চলতি অর্থবছরে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে দেখা গেছে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ জুতা রপ্তানি করেছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০০৯-১০ অর্থবছরে এসে রপ্তানির পরিমান বেড়েছে। এসময়ে রপ্তানি হয় ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এরপর ২০১০-১১ অর্থবছরে এসে ২৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার হয়।২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের জুতা রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশে তৈরি হওয়া জুতা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বের নামকরা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশের জুতার বাজারে দিন দিন আকৃষ্ট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাম করা কোম্পানি বস্তানিয়া ও টিম্বারল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের আইজিটান, জাপানের এবিসি মার্ক, যুক্তরাজ্যের ক্লার্ক, তাকাসুমা ও ক্রাসমার্কসহ জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও কানাডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বাংলাদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক জুতার বাজরের বিভন্ন পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের মতো জুতা শিল্পে বিদেশি ক্রেতারা আকৃষ্ট হওয়ার মুল কারণ এখানে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমূল্যে ভালো মানের জুতা কিনতে পারে। তাছাড়া এখন ইউরোপের বাজারে চিন ও ভিয়েতনামের জুতা রপ্তানির ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ রয়েছে। এসব দেশে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জুতা উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক সস্তার বাজারে এগিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ থেকে ওই সব দেশে জুতা রপ্তানি করছে জেনিস, ল্যান্ডমার্ক, পিকার্ড বাংলাদেশ, এ্যাপেক্স-এডেলকি, ফরচুনা বাংলাদেশ, বে ফুটওয়্যার, এবিসি লেদারগুডসসহ বেশ কয়েকটি নাম করা প্রতিষ্ঠান।