ভোটের আগ মুহুর্তে পাল্টে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের চিত্র

brahmanbaria

brahmanbariaভোটের আগ মুহুর্তে পাল্টে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের চিত্র। ওই দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ শেষ মুহুর্তে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী নায়ার কবিরের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ায় এখন হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নৌকা না থাকলেও এ আসনে ছাড় পাচ্ছে না জাতীয় পার্টির লাঙ্গল।

এই যখন অবস্থা তখন জিয়াউল হকের সমর্থকরা আঞ্চলিকতার দোহাই দিয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট টানার চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, জিয়াউল হক সংশ্লিষ্ট আসনের এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, নায়ার কবির থাকেন জেলা সদরে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহুর্তে এসে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা নির্বাচন থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে।

নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী নায়ার কবিরের স্বামী হুমায়ুন কবির সাবেক উপমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক। এ পরিচিতির সুবাদে আওয়ামী লীগের একটি অংশ নায়ার কবিরের পক্ষ নেয়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী নায়ার কবিরের পক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও পাল্টে যায়। আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে নায়ার কবিরের পক্ষে মাঠে নামেন। সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে একটি বড় অংশ আনারস প্রতীকের নায়ার কবিরের পক্ষে মাঠে নামেন।

অবশ্য এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিকতাকে কাজে লাগিয়ে এবার নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে চাচ্ছেন জিয়াউল হক মৃধার সমর্থকরা। এলাকায় বলা হচ্ছে, নায়ার কবির এ আসনের অন্তর্ভূক্ত কোনো উপজেলার বাসিন্দা নন। ’ভাড়াটিয়া’ কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত করলে এ আসনের জন্য অসম্মানের হবে। এছাড়া এমপি প্রার্থী থাকা অবস্থায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে ভোটারদের কাছে।

এ প্রসঙ্গে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো. শাহীন সিকদার বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে জানানো হয় নি। এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য ক্ষমতায় থাকাকালে তেমন কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না করায় আমরা তার সঙ্গে নেই। নায়ার কবির আওয়ামী লীগের লোক বলে আমরা তার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।

বিষয়টি স্বীকার করে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. সফিউল্লাহ শুক্রবার দুপুরে বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তো সবারই জানা। কিন্তু আমার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা যে যার মতো কাজ করায় এখন আমি নিজেই অফ হয়ে গেছি।

এএস