হঠাৎ সংকটে দিল্লীর পোশাক শিল্প

garments_11দিল্লীর টেক্সটাইল ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিংস প্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় ভারত থেকে পোশাক রপ্তানি কমে যেতে পারে।এতে বিদেশী পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান গ্যাপ, মার্কস এ্যন্ড স্পেনসার, জেসি পেনি, ওয়ালমার্ট, এইচ এ্যন্ড এম এবং জারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার দি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পোশাকজাত পণ্য আমদানিতে ৪০ শতাংশ খরচ বৃদ্ধি করার প্রতিবাদে দিল্লীর ওই এলাকার ডায়ারস এবং পিন্টার্সরা তাদের সব কটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এসব প্রতিষ্ঠান পোশাকে রং ও ছাপ দেওয়ার পর তা রপ্তানিকারকদের হাতে পৌঁছায়।

দিল্লীর এনসিআর টেক্সটাইল ডায়ারস অ্যান্ড প্রিন্টারস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এস ডি খেতারপল জানান, এই অঞ্চল থেকে প্রতিবছরে ১৫ হাজার কোটি রুপির মতো পোশাক  রপ্তানি হয়। পোশাকে রং ও ছাপ দিতে কাজ করতে হয় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে। এরপর পর তা বিশ্বের বড় বড় ব্রান্ডের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু গার্মেন্টস থেকে পোশাক আমদানি ব্যয় উর্ধ্ব গতিতে বেড়ে যাওয়ায়  অধিকাংশ ডায়িং প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যদি এভাবে চলতে থাকে তবে আমাদের এ শিল্প একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয় এক সময় এসব আন্তর্জাতিক ব্রান্ডগুলো চিন ছেড়ে  বাংলাদেশের গার্মেন্টস থেকে পোশাক আমদানির পরিমাণ বাড়াতে শুরু করে, কিন্তু বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে এখান থেকেও পোশাক আমদানি কমিয়ে দেয়। তাই কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের সাথে ভারতই হচ্ছে তাদের শস্তায় পোশাক আমদানির উৎকৃষ্ট উৎস।

সারা বছরব্যাপী ভারতে বিদেশী পোশাক আমদানিকারকদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। ২০১২ সালে যেখানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে ভারতে সেখানে গত বছর রপ্তানি করেছে ২০ বিলিয়ন ডলারের মতো। ফেডারেশন বলছে, গত বছরে পোশাকের রংয়ের দামও যেমন বেড়েছে তেমনি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে।শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে জনপ্রতি ৫ হাজা ১০০ রুপি থেকে ৮ হাজার ১০০ রুপি।রংয়ের দামও ৩১৬ রুপি থেকে বেড়ে ৫৭৮ রুপি হয়েছে।

এই ফেডারেশনের আওতাধীন এক গার্মেন্টস মালিক ভিজয় জেইন জানান, এইসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা পোশাক রপ্তানি করি ঠিকই কিন্তু বিনিময়ে আমরা ন্যায্য মূল্য পাই না। তিনি আরও জানান, আমরা যদি তাদের কাছে পোশাক রপ্তানি না করি তবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।