টমেটোর চাষ পদ্ধতি ও এর চাহিদা

tomato

tomatoটমেটো একটি শীতকালীন সবজি। এর ইংরেজি নাম Tomato ও বৈজ্ঞানিক নাম Solanum lycopersicum. টমেটো একটি ফল হলেও সবজি হিসেবেই সারাবিশ্বে এটি বেশি পরিচিত। সবজি এবং সালাদ হিসেবে ব্যাবহার করা টমেটোকে।চাষীরা দেশের বাজারে টমেটোর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরে রপ্তানি করেও অনেক অর্থ উপার্জন করছে।টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আমিষ, ভিটামিন এবং ভিটামিন-সি রয়েছে। লাইকোপেন নামে টমেটোতে বিশেষ এক ধরণের উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলী, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, প্রোস্টেট, মূত্রাশয় ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

টমেটো আমাদের দেশের একটি প্রধান শীতকালীন সবজি। বাংলাদেশে টমেটো  বিলাতী বেগুন নামে ব্যাপক পরিচিত। বাংলাদেশে টমেটো সবজি হিসাবে বহুল প্রচলিত। সবজি হলেও ফলের ন্যায় এটি রান্না না করেও খাওয়া যায়।

টমেটোর বীজ সংগ্রহ

টমেটোর বীজ সংগ্রহের জন্য প্রথমত পাকা ও পুষ্ট টমেটো সংগ্রহ করতে হবে। তারপর বালতি বা গামলাতে ২-৩ দিন রেখে দিতে হবে। বীজ মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজগুলো ফলের আঠালো অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারপর চালনির সাহায্যে বীজ আলাদা করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

টমেটোর চাষ পদ্ধতি

শীতকালীন সবজি এবং ফসল হলেও এর কয়েকটি জাত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে চাষ করা যায়। তবে আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই শীতকালীন টমেটো চাষ করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের অনেক স্থানে এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে টমেটো চাষ ও বাজারজাত করা হয়।

জমি তৈরি

১. টমেটো গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ২০-২৫ সে.মি. উঁচু ও ২৩০ সে.মি. চওড়া বেড তৈরি করে নিতে হবে।

২. টমেটো চাষের জন্য জমি ৪-৫ বার চাষ দিয়ে মাটি ঝরঝরে করে নিতে হবে।

৩. সেচের সুবিধার জন্য দু’টি বেডের মাঝে ৩০ সে.মি. নালা রাখলে ভাল।

টমেটোর বীজ বপন ও চারা রোপণ পদ্ধতি

১. প্রত্যেকটি বেডে দুই সারি করে চারা রোপণ করতে হবে। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৬০ সে.মি. রাখতে হবে।

২. টমেটোর বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী হয়।

৩. প্রতি সারিতে চারার দূরত্ব ৪০ সে.মি. রেখে ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে।

টমেটোর পুষ্টিগুণ

টমেটোতে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ আছে। তাছাড়া, লাইকোপেন নামে টমেটোতে বিশেষ এক ধরণের উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলী, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, প্রোস্টেট, মূত্রাশয় ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

টমেটোর চাহিদা ও বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।টমেটো চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। টমেটো বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আর নেওয়া যেতে পারে বিভিন্ন পরমর্শ।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

টমেটোর মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে। গবাদি পশুর থেকে প্রাপ্ত গোবর ও বিভিন্ন পঁচা আবর্জনা সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।