অবশেষে বেঁচে ফিরলেন ‘শোকালিসকি’র বিজ্ঞানীরা

Akademik-Shokalskiyদুঃসাহসিক অভিযানের নেশায় বরফঘেরা সুদূর আন্টার্কটিকায় পাড়ি দিয়েছেলেন একদল পর্যটক ও বিজ্ঞানী। কিন্তু তাদের বহনকারী জাহাজ আকাদেমিক শোকালিসকি আন্টার্কটিকার বরফে  আটকা পড়ে। এতে জীবন নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন তারা। অবশেষে আজ একটি হেলিকপ্টার তাদেরকে টানা আট দিনের মরণ-বন্দীত্ব থেকে রক্ষা করেছে। খবর হাফিংটন পোস্ট, সানডে মর্নিং হেরাল্ড ও ডেইলি মেইলের।

জানা গেছে,  গত ২৬ ডিসেম্বর জাহাজটি বরফে আটকা পড়ে। চাইনিজ জাহাজ জুয়ি লং বা স্নো ড্রাগন প্রথমে শোকালিসকিকে উদ্ধারে এগিয়ে যায়। কিন্তু ঝড়ো বাতাসের প্রকোপে বরফের পুরুত্ব বেড়ে গেলে স্নো ড্রাগন নিজেই আটকা পড়ে যায় ২৭ ডিসেম্বর। এরপর ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে জাহাজটিকে বরফমুক্ত করার কাজ শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জাহাজটি পুরোপুরি বরফমুক্ত হলে প্রথমে পর্যটক ও বিজ্ঞানীদের অ্যারোরা অস্ট্রলিয়া নামের উদ্ধারকারী জাহাজে তোলা হয়। পরে আজ তাদেরকে হেলিকপ্টারে করে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া প্রদেশে আনা হয়।

এপির বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ৫২ জনের পর্যটক ও বিজ্ঞানী নিয়ে নিউজিল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে আকাদেমিক শোকালিসকি। কিন্তু গত শনিবার জাহাজটি আটকে পড়ে আন্টার্কটিকার বরফে। জাহাজ যে সামনের দিকে আগাচ্ছে না তা ক্রিসমাস ইভের পার্টি-হুল্লোরে মত্ত থাকায়  জাহাজের বিজ্ঞানী-পর্যটকেরা শুরুতে টেরই পাননি। হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজ থেমে গেলে আনন্দ-আমোদ ভুলে অসহায় হয়ে পড়েন তারা।

জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার জানান, বিশাল এক খন্ড বরফের মধ্যে আটকে পড়ে জাহাজটি। ফলে এতো বড় জাহাজটিকে বরফের শিকল থেকে ছাড়িয়ে আনা ছিলো একেবারেই অসম্ভব। দীর্ঘ এক সপ্তাহের প্রচেষ্টায় তাও সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র এলভিন স্টোন বলেছেন, পুরো অভিযানটি কন্ট্রোল করা হয়েছে  অস্ট্রলিয়ার মেরিটাইম সেফটি অথরিটির রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার থেকে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিউজ ও সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে পুরো কাজটির ভিডিও ক্লিপিংস পোস্ট করা হয়েছে।