শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home জাতীয় অপরাধ ও আইন অর্থ আত্মসাতের মামলা হচ্ছে এইম-ওয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

অর্থ আত্মসাতের মামলা হচ্ছে এইম-ওয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

অর্থ  আত্মসাতের মামলা হচ্ছে এইম-ওয়ের  পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
দুদক ও এইম ওয়ে লোগো

acc-aimএমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) কোম্পানির নামে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এইম-ওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলার অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।আগামি কয়েকদিনের মধ্যেই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের সভায় মামলাটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অর্থসূচককে নিশ্চিত করেন দুদকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মামলায় এইম-ওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান সাইয়েদ রিদওয়ান বিন ইসহাক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.মাসুদ রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম সালাহ উদ্দিন ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মশিউর রহমানকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, পল্টনের গ্রান্ড আজাদ হোটেলে এইম-ওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান খোলে কয়েকজন ব্যক্তি।কোম্পানিটি ১ লাখ টাকা জমা রাখার বিনিময়ে ৬ মাসে ২ লাখ টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক তৈরি করে। এসব গ্রাহকদের কাছ থেকে কোম্পানি প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে।২০০৯ সালে কাজ শুরু করার পর মাথায় চুল গজানো তৈল, বলবর্ধক সামগ্রী, টুথপেস্ট ও হারবাল প্রোডাক্ট তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বেশি মূল্যে বিক্রি করা শুরু করে। আর ৬ মাস পর কিছু গ্রাহককে টাকা প্রদান করতে পারলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের মুনাফা ও মূলধন থেকে বঞ্চিত হয়।

সূত্র আরও জানায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের পর কোম্পানির ফান্ডে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকে ১২ কোটি ৭০ লাখ, আলোর দিশারী সমবায় সমিতির নামে ৩৫ লাখ এবং কোম্পানির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নামে প্রায় ১ কোটি ৫০ হাজার টাকা ব্যাতিত সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করে।এরমধ্যে চেয়ারম্যান ব্যাতিত বাকী আসামিরা কোম্পানির ফান্ডের ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি হিসেব থেকে ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক থেকে ১২ কোটি ৫০ হাজার ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।

২০১১ সালে অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুদক উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এইম-ওযে করপোরেশন নামে কোম্পানি খোলার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ৪(১) এর বিধান লঙ্গন করেছেন। একই সাথে তারা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করেছেন।

অনুসন্ধান শেষে অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০৯ এর ৪(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২)(৩) ধারা মোতাবেক তাদের কাজটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ‘দুদক আইন ১৯৪৭’ এর ৪(২)ধারায় ও  দণ্ড বিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের অনুমোদন দেয় দুদক।