খুলনায় এক বছরে বাজার ছেড়েছেন ২০ হাজার বিনিয়োগকারী

broker house
ডিএসইর একটি ব্রোকারহাউজের শাখা-ফাইল ফটো

Sharebazar 2-1মন্দা অব্যাহত থাকায় শেয়ারবাজার থেকে ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সদ্য বিদায়ী বছরে বাজার থেকে বেরিয়ে গেছেন শিল্পনগরী খুলনার প্রায় ২০ হাজার বিনিয়োগকারী। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ধস নামার পর নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও শেয়ারবাজারে গতি ফিরে আসেনি। এ কারণে তাদের মধ্যে একের পর পর হতাশা বাড়তে থাকে। আর তা থেকে বিনিয়োগকারীদের বেড়ে যায় বাজারবিমুখতা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনায় ১৮টি সিকিউরিটিজ হাউজ রয়েছে। যেখানে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বিনিয়োগকারী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাট ও চিংড়ি মাছ ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মী, এমনকি গৃহিণীরাও। আস্থাহীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৩ সালে রাগে-ক্ষোভে ও দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে অনেকেই বাজার ছেড়েছেন।

আইসিবি সিকিউরিটিজ এর বিনিয়োগকারী  নাজমুল হক, বাজারে তার মোট বিনিয়োগ ছিলো ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের ২০ লাখ টাকা এবং ঋণ নিয়েছিলেন আরও ২০ লাখ টাকা। তবে বাজারের মন্দাভাব আর চলমান রাচনৈতিক অস্থিরতায় তিনি আস্থা ধরে রাখতে পারেননি। তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগের সকল টাকা।

নাজমুলের মতো আল আরাফা সিকিউরিটিজের আরেক বিনিয়োগকারী হাবীবুর রহমানও একই কারণে তুলে নিয়েছেন তার বিনিয়োগের ১৫ লাখ টাকা।

জামান মারুফের বাজারে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে মোট ২৬ লাখ টাকার বিনিয়োগ ছিলো। কিন্তু এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় তিনি সেকেন্ডারি বাজারের ২৩ লাখ টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

খুলনা ইনভেস্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ডাকুয়া অর্থসূচককে জানান, তিন বছরের বেশি সময়ে শেয়ারবাজারে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। যার কারণে লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে গেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

তিনি আরও জানান, সদ্য বিদায়ী বছরে খুলনার স্থানীয় সিকিউরিটিজ হাউজগুলো থেকে প্রায় ২০ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মহানগরীর আইসিবি সিকিউরিটিজ, মর্ডাণ সিকিউরিটিজ, এম সিকিউরিটিজ, এ্যাসোসিয়েটেড ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ, স্টক এ্যান্ড বন্ড সিকিউরিটিজ, র‌্যাপিড সিকিউরিটিজ, এনসিসি সিকিউরিটিজ, জয়তুন সিকিউরিটিজ, ফকরুল সিকিউরিটিজ, আল-আরাফা সিকিউরিটিজ, সিনহা সিকিউরিটিজ ও আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ হাউজে সেই পূর্বের ন্যায় বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এসব হাউজের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানিয়েছেন, বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী হাউজে আসেন সমন্বয় করতে। আবার কেউ কেউ আসেন শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে।

এসোসিয়েটেড ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ হাউজের খুলনা শাখা ব্যবস্থাপক ওয়েস আলী জামাল অর্থসূচককে জানান, বাজারে দীর্ঘ মন্দায় অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেকে অপেক্ষায় ছিলেন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাজার ভালো হবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশানুযায়ী ভাল বাজার না পেয়ে কেউ কেউ এ ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় হাউজের আয়ও কমে আসছে।

আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ হাউসের খুলনা শাখা ব্যবস্থাপক তাপস কুমার সাহা অর্থসূচককে জানান, বেশ কয়েকটি  কারণে বিনিয়োগকারীরা বাজার ছাড়ছেন। আর এসব কারণের অন্যতম হচ্ছে তিন বছরের বেশি সময় বাজার পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীল না হওয়া এবং পুঁজির অভাব ও মার্জিন ঋণের বোঝা কমাতে না পারা সাথে সাথে নতুন ঋণ না পাওয়া।

দীর্ঘ দিন চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষায় থেকেও সুযোগ না পেয়ে পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতেও পারছেন না অনেকে। ফলে অনকে এই টাকা অন্য ব্যাবসায়ও বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন।