নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা শিক্ষাঙ্গন

Patthopustok-Utshob-Dominic-4সারা দেশের বিদ্যানিকেতনগুলোর প্রাঙ্গন মেতেছে নতুন বইয়ের উৎসবে।আজ বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সারাদেশের  চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে উঠছে ৩১ কোটি নতুন বই।নতুন বইয়ের মম গন্ধে মাতোয়ারা স্কুলগুলোর আঙ্গিনা। শিক্ষার্থীদের মন নতুন বই পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা।

দেশের সকল প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ২০ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

তবে আজ সকালে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হয় রাজধানীর গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল প্রাঙ্গণে। সেখানে রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নানা জটিলতার কারণে প্রথম বছর মাত্র ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে নতুন বই দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে এরপর থেকে নিয়মিত প্রায় সব শিক্ষার্থীকেই নতুন বই দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, টানা হরতাল অবরোধর মধ্যেও এবার ১৬ হাজার ট্রাকে করে সকল বিদ্যালয়ে নতুন বই পৌছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাঠ্যবই মোট ছাপা হয়েছে ৩৩ কোটি। এবছর ৩ কোটি ৭৩ লাখ শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে।

সূত্র জানায়, সব বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই পৌছে দেওয়ার পরও প্রতিবছর ১০ শতাংশ বই ‘আপৎকালীন মজুদ’ (বাফার স্টক) হিসেবে সরকারের হাতে রাখা হয়।BIAM1

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নিয়েও বইয়ের ট্রাক পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। তবে এর মধ্যেও যশোর, সাতক্ষিরাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বই পাঠানো সম্ভব হয়নি।

মুদ্রণ ও প্রকাশকরা জানান, গত ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু বইয়ের কার্যাদেশ পাওয়ার পরই জাতীয় পর্যায়ে এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে হরতাল-অবরোধ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সময়মতো পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এনসিটি দাবি করেছে, প্রাথমিকে ৯৮ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৯৫ শতাংশ এবং মাদ্রাসায় ৮০ শতাংশ পাঠ্যবই পৌঁছানো হয়েছে।