দিনাজপুর ম্যাপদিনাজপুরের পার্বতীপুরে হাতে মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই যৌতুকের কারণে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো নববধূ আফিয়া জামান মিতা কে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দায়ী ব্যাক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বুধবার দুপুরে স্থানীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। নববধূ আফিয়া জামান মিতা দগ্ধ অবস্থায় দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মঙ্গলবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করে। আফিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানায়, পাচ লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ায় স্বামী,শশুর, শাশুড়ী ও ননদ মিলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছর ১১ অক্টোবর রোস্তম নগর মহল্লার রেল কর্মচারী ওয়াসিবুর রহমান শুভর সঙ্গে আফিয়া জামান মিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের কারণে আফিয়া জামান মিতা কে তার শশুর বাড়ীর লোকজনেরা বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে আসছিল। গত ১৬ ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে অন্যান্য দিনের মত বাবার বাড়ী থেকে ৫ লক্ষ টাকা  যৌতুক নিয়ে আসতে বললে আফিয়া জামান মিতা তাতে অপারগতা জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে  আফিয়া জামান মিতার শাশুড়ি নাসিমা বেগম, ননদ তামান্না ইয়াছমিন, স্বামী ওয়াসিবুর রহমান শুভ ও শ্বশুর এসএম ওয়াহিদুর রহমান তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মিতার শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় রাতেই তাকে স্থানীয় ল্যাম্ব হাসপাতালে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে মিতার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে মিতা মৃত্যুবরণ করে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িতরা নিজেদের বাঁচাতে কৌশলে ছড়িয়ে দেয় মিতার সাথে জনৈক ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া বিবাদের জের ধরে অভিমান করে মিতা নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গত ১৭ ডিসেম্বর মিতার ফুফা কাজী তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে তার শাশুড়ি নাসিমা বেগম, ননদ তামান্না ইয়াছমিন, স্বামী ওয়াসিবুর রহমান শুভ ও শ্বশুর এসএম ওয়াহিদুর রহমান কে আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ মিতার শ্বাশুড়ী নাসিমা খাতুন, ননদ তামান্না ইয়াসমিন সেতু ও সেতুর বান্ধবী নাজমা আকতার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,যৌতুকের কারণে নববধূ মিতাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিনই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্ট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরের পর জানাযা নামাজ শেষে চান্দোয়াপাড়া কবরস্থানে মিতার লাশ দাফন করা হয়েছে।