মৌচাষে স্বাবলম্বী রাজশাহীর রইচউদ্দিন

Honey cultivate

Honey cultivateমৌচাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটের রইচউদ্দিন। বিসিক রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পশিক্ষণ শেষে সামান্য মূলধন নিয়ে মৌচাষ শুরু করেন তিনি।

প্রথম দিকে লাভের পরিমাণ কম হলেও উন্নতমানের মধু সরবরাহের কারণে দিন দিন বাড়তে থাকে তার প্রচার, প্রসার ও লাভের পরিমাণ। প্রতিবছর তিনি ৪০ থেকে ৬০ মণ মধু উৎপাদন করে থাকেন। বছরের ছয় ঋতুতে সরিষা, আম, লিচু মৌসুমে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মৌবাক্স স্থাপন করে থাকেন। এসব বাক্সে উৎপাদিত মধু সংগ্রহ করে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেছেন তিনি।

রইচউদ্দিন মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার রায়ঘাটি গ্রামের মৃত নহীরউদ্দিনের ছেলে। ছোটবেলায় সামান্য লেখাপড়া করে বাবার সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। পরবর্তীতে তিনি কেশরহাট ডিগ্রি কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে যোগ দিয়ে সংসার শুরু করেন। সে সময় সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। একপর্যায়ে তিনি কলেজে কর্মচারীর চাকরির পাশাপাশি নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।

অনেক চিন্তাভাবনা করে মৌচাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। চাকরির ফাঁকে শুরু করেন মৌচাষ। প্রথমদিকে মধু সংগ্রহ করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। ধীরে ধীরে মধুচাষ করার পদ্ধতিটি পুরোপুরি আয়ত্তে নিয়ে আসেন। বাড়তে থাকে তার মধু উৎপাদনের পরিমাণ। তার উৎপাদিত মধু উন্নতমানের হওয়ায় খুব দ্রুত চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

রইচউদ্দিনের সংসারে আসতে শুরু করে সুখের বার্তা। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছোট পরিবার এবং সুখি পরিবার তার। ছেলে অনার্স প্রথমবর্ষে ও মেয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মাথা গোঁজার জন্য শিবনদীর পাড়ে মনোরম পরিবেশে গড়েছেন পাকা বাড়ি।

তিনি জানান, কষ্টের পর পেয়েছেন অনেক সুখের সংসার। মহাআনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটছে তার জীবন। এখন সন্তানদের মানুষ করার ভাবনায় কাটছে দিন।

কেএফ