আওয়ামী লীগ হচ্ছে ওয়াশিং মেশিন : মনঞ্জুরুল আহসান খান

monjurul-ahsan-khanআওয়ামী লীগ হচ্ছে ওয়াশিং মেশিনের মত; চোর-বাটপার, যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার যেই তাদের দলে যোগ দেয় সেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিতে পরিণত হয় বলে মন্তব্য করেন কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কমরেড মনঞ্জুরুল আহসান খান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার বিকালে সিপিবি এবং বাসদের আয়োজিত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের উপর সাম্র্রাজ্যবাদ বিস্তার করেছে। তাই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এই সাম্র্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধকে এক করে ফেলার অপকৌশল চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবো।

মাহাবুবুল আলম হানিফের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হানিফ বলেছেন জামায়াত শিবিরের সকল নেতা যুদ্ধাপরাধী নয়। আর এই কথা বলে তিনি তার দলে কিছু জামায়াত-শিবিরকে যুক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের স্বভাব এখন ওয়াশিং মেশিনের মত হয়ে গেছে। যরা তাদের দলে আসে  তারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে যায়। জামায়াতের সাথে কৌশলগতভাবে ঐক্য করেছে আওয়ামী লীগ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠছে জামায়াত-শিবির। তিনি আরো বলেন, এই সরকার জামায়াত ইসলামীকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা ‘মডারেট মুসলিম পার্টি’।  বড় দুটি দলই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে জামায়াতকে মাথায় তুলেছে।

জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলার জনগণ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ দেখতে চায়। কিন্তু তারা জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ না করে হিজবুত তাহারীরকে নিষিদ্ধ করেছে।

আমেরিকার পছন্দ জামায়াত শিবির, হিজবুত তাহরীকে মার্কিনিরা পছন্দ করে না, তাই মার্কিন সাম্যাজ্যবাদকে খুশি রাখার জন্যই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। তারা এখনো ষড়চন্ত্র করছে। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিএনপিও।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের নতুন বছরে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটানোর সুযোগ এসেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ভিয়েতনামে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়ন ও ডাকসু’র যৌথ নেতৃত্বে একটি মিছিল মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের দিকে আসার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদের। পরবর্তীতে তুমুল আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার ১৫ জানুয়ারি ভিয়েতনামের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেখান থেকে মার্কিন তথ্য অফিসও সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। তখন থেকে থেকে ১ জানুয়ারি বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব, কমরেড মোরশেদ আলী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য বজলুর রশীদ প্রমুখ।

জেইউ/সাকি